শাহজালাল বিমানবন্দরে রানওয়ে সংকট: আধুনিক থার্ড টার্মিনালের সুফল মিলছে কতটুকু?

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী সামলানোর ক্ষমতা বাড়াতে হাজার কোটি টাকা খরচে গড়ে তোলা হয়েছে থার্ড টার্মিনাল, তবে শাহজালাল বিমানবন্দরে রানওয়ে সংকট দূর না হলে এই বিশাল বিনিয়োগের পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না। একটি মাত্র কার্যকর রানওয়ে দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২৭৫টি বিমান ওঠানামা করানো এবং ২ কোটির বেশি যাত্রী পরিবহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। রানওয়ের সীমাবদ্ধতা না মেটালে দেশের এভিয়েশন হাব হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।
একটি বিশাল শপিংমল বানিয়ে লাখো মানুষের কেনাকাটার ব্যবস্থা করা হলো, কিন্তু ভেতরে ঢোকা ও বের হওয়ার জন্য রাখা হলো মাত্র সরু একটি গলি। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্তমান অবকাঠামোগত বাস্তবতাও ঠিক তেমনই।
নতুন নির্মিত থার্ড টার্মিনালে অত্যাধুনিক বোর্ডিং ব্রিজ, স্বয়ংক্রিয় ব্যাগেজ সিস্টেম এবং আধুনিক ইমিগ্রেশন কাউন্টার যুক্ত হয়েছে। তবে একটি উড়োজাহাজ নামা এবং আরেকটি ওড়ার মধ্যবর্তী সময়ে যে টেক্সিওয়ে ও রানওয়ে ক্লিয়ারেন্স দরকার, তা একটি রানওয়ে দিয়ে দ্রুত সামাল দেওয়া অসম্ভব।
শাহজালালে দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নতুন কিছু নয়, তবে বহু বছর আগের ভুল নগরপরিকল্পনার খেসারত দিতে হচ্ছে এখন। বিমানবন্দরকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে ঘিঞ্জি বসতি ও নগরায়ন, যার কারণে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট রানওয়ে তৈরির জায়গা এখন আর অবশিষ্ট নেই।
সাধারণত আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী দুটি স্বাধীন রানওয়ের মাঝে ১,০৩৫ মিটার ব্যবধান প্রয়োজন হয়। সেখানে বিদ্যমান সীমানার ভেতরে দ্বিতীয় রানওয়ে করলে দূরত্ব মেলে মাত্র ৩৫৯ মিটার। এর ফলে দুটি রানওয়ে হলেও একই সাথে স্বাধীনভাবে দুটি বিমান ওঠানামা করাতে পারবে না সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (CAAB)।
বিশ্বের বড় বড় হাবগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বা দুবাই বিমানবন্দরের মূল শক্তি তাদের বহুমুখী রানওয়ে ও এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট। ঢাকায় নতুন নতুন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ফ্লাইট বাড়াতে আগ্রহী হলেও রানওয়ের এই বোতলনেকের কারণে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও স্লট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আগামী ৩০ বছরের জন্য একটি স্পষ্ট এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান দরকার। এর পাশাপাশি হাই-স্পিড টেক্সিওয়ে নির্মাণ, রাডার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে সমন্বিতভাবে যুক্ত করাই হতে পারে একমাত্র সমাধান।
থার্ড টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বছরে প্রায় ২ কোটি থেকে ২ কোটি ৪০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছাবে। একটি স্বাধীন বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট রানওয়ের জন্য দুটি রানওয়ের মাঝে প্রায় ১,০৩৫ মিটার দূরত্বের প্রয়োজন। কিন্তু বিমানবন্দরের চারপাশে ঘনবসতি ও স্থাপনা গড়ে ওঠায় বর্তমানে সর্বোচ্চ ৩৫৯ মিটার ব্যবধান পাওয়া সম্ভব, যা স্বাধীন পরিচালনার জন্য অপর্যাপ্ত। রানওয়েতে ভিড় থাকলে বিমানকে আকাশে চক্কর কাটতে হয় বা মাটিতে অপেক্ষা করতে হয়। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি পোড়ে, ডিউটি টাইম বাড়ে, শিডিউল বিপর্যয় ঘটে এবং সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়।











