প্রবাসীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন সহজীকরণে ভোটাধিকার ও পাসপোর্টের স্বস্তি

সরকার নির্দিষ্ট কিছু দেশের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন সহজ করায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধারা নতুন করে আশার আলো দেখছেন। নতুন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের পরও বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন এবং ভোটাধিকার ধরে রাখার স্পষ্ট সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এতে একদিকে প্রবাসীদের শেকড়ের টান যেমন বজায় থাকবে, অন্যদিকে দেশে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনাও খুলবে। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি সম্পত্তির উত্তরাধিকার ও দুই দেশের কর হিসাবের জটিলতা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
বিদেশের মাটিতে স্থায়ী হওয়ার পর নিজ দেশের পাসপোর্ট সচল রাখা ছিল অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নাগরিকত্ব আইনের এই শিথিলতা প্রবাসীদের দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটাধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে বড় ভূমিকা পালন করছে।
এখন থেকে নির্দিষ্ট অনুমোদিত দেশের নাগরিকত্ব নেওয়া প্রবাসীরা পাসপোর্ট নবায়নে অতিরিক্ত জটিলতার মুখোমুখি হবেন না। এতে করে দেশে যাতায়াত এবং এনআরবি কোটায় সুবিধা পাওয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে যাবে।
সুবিধার উল্টো পিঠে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতাও রয়ে গেছে। প্রবাসীরা বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পর দেশে থাকা পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তরে বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদানে বিভিন্ন নথিপত্রের বাধার সম্মুখীন হন।
বিশেষ করে সম্পত্তি বিক্রি ও অর্থ বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাংক ও রাজস্ব বোর্ডের কড়াকড়ি থাকে। এছাড়া প্রবাসীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব সুরক্ষায় দুই দেশের দ্বৈত কর নীতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে প্রবাসীদের অহেতুক আইনি ঝামেলা ও জরিমানা গুনতে হতে পারে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান। নাগরিকত্ব সুবিধা সহজ হলে এই অর্থের একটি বড় অংশ রিয়েল এস্টেট, শেয়ার বাজার এবং জাতীয় অবকাঠামো খাতে স্থায়ীভাবে বিনিয়োগ হতে পারে।
তবে এই উদ্যোগের শতভাগ সুফল পেতে হলে সরকারি দপ্তরগুলোর ডিজিটাল সেবা আরও দ্রুত করতে হবে। পাসপোর্ট অধিদপ্তর, রাজস্ব বোর্ড এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত ভূমিকার মাধ্যমেই প্রবাসীরা এই আইনের প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবেন।











