আড়াই মাস পর ফিরল রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ জনের লাশ

সৌদি আরবের রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো নওগাঁ জেলার পাঁচ প্রবাসী কর্মীর মরদেহ আড়াই মাস পর অবশেষে দেশে এসে পৌঁছেছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষার জটিলতা শেষে লাশগুলো নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
আড়াই মাস আগে সৌদি আরবের রিয়াদে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যেখানে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। সেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন নওগাঁর এই পাঁচ প্রবাসী। প্রবাসে মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তাদের পরিচয় শনাক্তকরণে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। আগুনে মৃতদেহগুলো ব্যাপকভাবে পুড়ে যাওয়ায় নিশ্চিত পরিচয়ের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিএনএ (DNA) টেস্ট করানো হয়।
এরপর সেখানকার স্থানীয় পুলিশি ছাড়পত্র, হাসপাতালের সনদ এবং দূতাবাসের আনুষঙ্গিক আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর অবশেষে কার্গো ফ্লাইটে করে তাদের কফিনগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহগুলো নওগাঁয় নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে স্বজনদের।
নিহতদের কফিন গ্রামে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষমাণ আত্মীয়স্বজনের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখতে ভিড় জমান শত শত সাধারণ মানুষ। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে যারা দেশ ছেড়েছিলেন, তাদের এমন নিথর প্রত্যাবর্তন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তানরা। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং জানাজা শেষে পারিবারিক ও স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। চোখের জলে অশ্রুসিক্ত নয়নে এই কর্মবীরদের চিরবিদায় জানান এলাকাবাসী।
লাশ দাফন পর্ব শেষ হলেও এই পাঁচ পরিবারের সামনে এখন পাহাড়সম এক অর্থনৈতিক সংকট। উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমানোর সময় এই কর্মীরা স্থানীয় মহাজন, আত্মীয়স্বজন এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা এখন পুরোপুরি দিশেহারা। একদিকে স্বজন হারানোর দগদগে ক্ষত, অন্যদিকে মাথার ওপর চেপে বসা ঋণের বিশাল বোঝা। পাওনাদারদের টাকা কীভাবে পরিশোধ হবে এবং আগামী দিনে সংসার কীভাবে চলবে, সেই চিন্তায় প্রতিটি পরিবারের দিন কাটছে ঘোর অনিশ্চয়তায়।











