নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ #শ্রমবাজার

ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি গড়তে বাংলাদেশকে সাহায্য করবে সুইজারল্যান্ড

ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) আধুনিকায়নে সরাসরি কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে সুইজারল্যান্ড। সম্প্রতি ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সুইস প্রতিনিধিদলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এতদিন দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে সনাতন পদ্ধতিতে যে শিক্ষা দেওয়া হতো, তা বিদেশের আধুনিক শিল্পকারখানার কাঠামোগত চাহিদার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। সুইজারল্যান্ডের মতো উন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর দেশের কারিগরি সহায়তায় দেশের টিটিসিগুলোর সার্বিক চেহারা বদলে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই কেন্দ্রগুলোকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শুধু কর্মী নয়, বরং বিশ্বমানের প্রশিক্ষক তৈরি করা। ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সনদপ্রাপ্ত প্রশিক্ষকদের একটি অত্যন্ত দক্ষ দল গঠন করা হবে। এই প্রশিক্ষকরা পরবর্তীতে দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা অন্যান্য টিটিসিগুলোতে প্রশিক্ষণ দেবেন। এর ফলে কারিগরি শিক্ষার গুণগত মান দেশের নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং স্থানীয় তরুণরা নিজ জেলাতেই মানসম্মত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সুইস প্রতিনিধিদলের আলোচনায় মূলত ইউরোপের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের চাহিদার কথা বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় সেখানে স্বাস্থ্যসেবা বা কেয়ারগিভিং পেশায় প্রচুর কর্মীর প্রয়োজন হচ্ছে। ঠিক এই কারণেই স্বাস্থ্যসেবা খাতকে টিটিসি আধুনিকায়ন প্রকল্পের অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ভারী শিল্প ও কারখানার জন্য আধুনিক ওয়েল্ডিং, ইলেকট্রিক্যাল মেকাট্রনিক্স এবং মেকানিকাল ট্রেডের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে মেকাট্রনিক্সের মতো স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিক বিষয়ে দক্ষ কর্মীর ব্যাপক কদর রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের সহায়তায় এসব ট্রেডে প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশি কর্মীরা যে সনদ লাভ করবেন, তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হবে। ফলে ইউরোপের যেকোনো দেশের শিল্প কারখানায় তাদের সরাসরি কাজের সুযোগ পাওয়া অনেক সহজতর হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শ্রমবাজার মূলত মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে কর্মরত বেশিরভাগ কর্মীই অদক্ষ বা আধাদক্ষ হওয়ায় তাদের মজুরি কাঠামো তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বিপরীতে, একজন আন্তর্জাতিক সনদপ্রাপ্ত দক্ষ কর্মী সাধারণ শ্রমিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম।

ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি গড়তে বাংলাদেশকে সাহায্য করবে সুইজারল্যান্ড

আড়াই মাস পর ফিরল রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *