নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ #শ্রমবাজার

সার্বিয়া ও বেলারুশের শ্রমবাজারে বাড়ছে বাংলাদেশি কর্মী

চলতি বছরে চিরাচরিত মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে পূর্ব ইউরোপের সার্বিয়া ও বেলারুশের শ্রমবাজারে দুই সহস্রাধিক বাংলাদেশি কর্মী সফলভাবে যুক্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারী অবকাঠামো নির্মাণ, কারখানার উৎপাদন লাইন এবং বাণিজ্যিক কৃষি খাতে বৈধপথে এই বিপুলসংখ্যক জনশক্তি রপ্তানি সম্পন্ন হয়েছে।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান কিংবা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো। করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে। স্থানীয়ভাবে তরুণ ও কর্মক্ষম জনশক্তির সংকট থাকায় তারা এশিয়ার দেশগুলো থেকে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী নিয়োগে মনোযোগ দিয়েছে। এই সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ।

সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডসহ (Belgrade) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে এখন আধুনিক সড়ক, মেগা ব্রিজ ও সুউচ্চ আবাসিক ভবন নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। এসব ভারী প্রকল্পে বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিক, ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান এবং ভারী যন্ত্রপাতি চালকদের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বেলারুশের (Belarus) চিত্র কিছুটা ভিন্ন হলেও সম্ভাবনাময়। সেখানে ভারী শিল্পের বিভিন্ন কারখানা এবং হাজার হাজার একর জুড়ে থাকা বাণিজ্যিক কৃষি প্রকল্পগুলোতে বাংলাদেশি কৃষি ও কারিগরি শ্রমিকরা সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।

ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক কর্মপরিবেশে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা কর্মীরা এখন দেশ থেকেই অর্জন করে যাচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কঠোর মানদণ্ড অনুযায়ী সেফটি গিয়ার বা নিরাপত্তাসামগ্রী সঠিকভাবে ব্যবহার করার কারিগরি জ্ঞান তাদের রয়েছে। সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো, কাজে যোগ দেওয়ার আগেই কর্মীরা স্থানীয় ভাষার ওপর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। কাজের সাইটে বিদেশি প্রকৌশলী ও সুপারভাইজারদের নির্দেশনা বুঝতে তাদের কোনো ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে না। দ্রুত কাজ আয়ত্ত করার এই ক্ষমতার কারণেই নিয়োগদাতাদের কাছে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি দ্রুত উজ্জ্বল হচ্ছে।

পূর্ব ইউরোপে তৈরি হওয়া এই আইনি ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়ার বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় সার্বিয়া বা বেলারুশে কর্মীদের ন্যূনতম বেতনকাঠামো এবং সামাজিক নিরাপত্তা অনেক বেশি সুসংহত। নির্দিষ্ট আট ঘণ্টার কর্মদিবস, ওভারটাইমের জন্য বাড়তি ভাতা এবং উন্নত বাসস্থান সুবিধার কারণে কর্মীরা আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছেন। নিজেদের খরচ মিটিয়ে তারা দেশে তুলনামূলক বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন।

সমুদ্রপথ বা দুর্গম জঙ্গল পেরিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের একটি বিপজ্জনক প্রবণতা আমাদের দেশে দীর্ঘদিনের সমস্যা। বৈধভাবে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে যাওয়ার এই আইনি পথ সুগম হওয়ায় মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের হার অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

সার্বিয়া ও বেলারুশের শ্রমবাজারে বাড়ছে বাংলাদেশি কর্মী

ইরাকে কর্মী নিয়োগ: তেল প্রকল্পে কাজ পেলেন

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *