নভেম্বর ৯, ২০২৬
#মধ্যপ্রাচ্য #শ্রমবাজার

ইরাকে কর্মী নিয়োগ: তেল প্রকল্পে কাজ পেলেন ৩ হাজার বাংলাদেশি

ইরাকের বসরা এবং এরবিলের তেল শোধনাগার ও যুদ্ধোত্তর অবকাঠামো পুনর্গঠন প্রকল্পে সরকারি অনুমোদনে প্রায় তিন হাজার দক্ষ বাংলাদেশি সরাসরি কাজের সুযোগ পেয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই দেশে নতুন করে শুরু হওয়া ইরাকে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক জনশক্তি ইতিমধ্যে কাজে যোগ দিতে শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়া এসব কর্মীর মধ্যে পাইপলাইন ওয়েল্ডার, হেভি ক্রেন চালক এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেকট্রিশিয়ানরা বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছেন। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কাটিয়ে দেশটি এখন নিজেদের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত তেল শোধনাগারগুলো সচল করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য তাদের প্রচুর পরিমাণ দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন শ্রমিকের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বাগদাদ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও অনুমোদনের ভিত্তিতেই এই বাংলাদেশিরা সেখানে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে কাজের পরিবেশ নিয়ে অনেকের মনেই নানা ধরনের শঙ্কা কাজ করে। তবে বর্তমান প্রকল্পগুলোর ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাজনিত রূপরেখা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বসরা ও এরবিলের যেসব অঞ্চলে এই তিন হাজার প্রবাসীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো বিশেষ সুরক্ষিত জোন হিসেবে পরিচিত। মূলত তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা সংলগ্ন হওয়ায় এলাকাগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়। কর্মীদের আবাসন এবং কর্মক্ষেত্রের সার্বিক সুযোগ-সুবিধাও আধুনিক মানদণ্ড মেনে তৈরি করা হয়েছে। ফলে কাজের ফাঁকে বা প্রাত্যহিক জীবনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রবাসীদের কোনো ধরনের উৎকণ্ঠায় ভুগতে হচ্ছে না।

নিরাপদ কর্মপরিবেশের পাশাপাশি তাদের নিয়মিত আয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানকার তেল শোধনাগারগুলোতে আধুনিক ও জটিল যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হওয়ায় সাধারণ শ্রমিকের চেয়ে দক্ষ কারিগরি কর্মীদের কাজের সুযোগ অনেক ভালো। যারা পাইপলাইন মেরামতের সূক্ষ্ম ওয়েল্ডিং বা ভারী ক্রেন চালানোর মতো অত্যন্ত সতর্কতামূলক কাজে পারদর্শী, তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে আলাদাভাবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তারা মূলত শোধনাগারের বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো দেখভাল করছেন।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ওমানের মতো প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে নতুন করে শুরু হওয়া এই কর্মসংস্থান বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। দক্ষ শ্রমিকের কদর বিশ্বজুড়েই রয়েছে। ইরাকের মতো তেলনির্ভর অর্থনীতি যখন নিজেদের পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে, তখন এই কারিগরি দক্ষতার চাহিদা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সরকারিভাবে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করেই কর্মীদের সেখানে পাঠানো হচ্ছে। এর একটি বড় সুবিধা হলো, দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হওয়া কিংবা অবৈধভাবে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি এখানে একেবারেই নেই।

ইরাকে কর্মী নিয়োগ: তেল প্রকল্পে কাজ পেলেন ৩ হাজার বাংলাদেশি

ঘরে বসেই মিলবে প্রবাসীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *