নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রবাসীর গল্প

ঘরে বসেই মিলবে প্রবাসীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও এনভিআর সনদ

বিদেশে জন্ম নেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্তানদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ বা এনভিআর সনদ নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করেছে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। নতুন এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে আবেদনকারীদের সশরীরে কোনো দূতাবাস বা দেশে আসার প্রয়োজন হবে না; বরং কেন্দ্রীয় সুরক্ষা পোর্টালে সরাসরি অনলাইনেই যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা কিংবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত লাখো প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য এটি একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা তাদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের সন্তানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানা দাপ্তরিক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছিলেন। কর্মব্যস্ত জীবনে সময় বের করে দূরবর্তী শহরে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে উপস্থিত হওয়া অনেকের জন্যই ছিল কষ্টসাধ্য। কাগজপত্রের মূল কপি প্রদর্শন এবং যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো। এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে সেই প্রচলিত ভোগান্তির চিরস্থায়ী অবসান ঘটতে যাচ্ছে। প্রবাসীরা এখন নিজেদের সুবিধামতো সময়ে যেকোনো স্থান থেকে পুরো কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

নতুন নিয়মে আবেদনকারীদের কেন্দ্রীয় সুরক্ষা পোর্টালে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদনের প্রাথমিক শর্ত হিসেবে পিতা অথবা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং সন্তানের ডিজিটাল জন্মসনদ পোর্টালে আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনকারী অনলাইনে ফি পরিশোধের সুযোগ পাবেন। সব তথ্য ঠিকঠাক জমা হলে সিস্টেম থেকে একটি স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং নম্বর প্রদান করা হবে। এই ট্র্যাকিং নম্বরের সাহায্যে পুরো প্রক্রিয়ার অগ্রগতি যেকোনো স্থান থেকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। নথিপত্রে কোনো অসংগতি বা ঘাটতি থাকলে তা পোর্টালের মাধ্যমেই দ্রুত জানিয়ে দেওয়া হবে। ফলে ভুল সংশোধন করে আবেদনটি পুনরায় সক্রিয় করার সুযোগ থাকছে এবং অযথাই ফাইল আটকে থাকার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি মিলবে।

কেবল এনভিআর নয়, দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের পদ্ধতিটিও একই সাথে সহজ করা হয়েছে। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি নিজেদের বিদেশি পাসপোর্ট গ্রহণ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের আইনি অধিকার বজায় রাখতে চান। নতুন নিয়মে তাদের সন্তানদের জন্যও এই অধিকার নিশ্চিত করা আরও সাবলীল হলো। সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটি একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় ডেটা জালিয়াতি বা তথ্য হারানোর কোনো শঙ্কা থাকছে না। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাথে এই সার্ভারের সরাসরি সংযোগ থাকার কারণে বিমানবন্দরে অবতরণের পর যাত্রীদের তথ্য যাচাইকরণেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সময় বাঁচবে। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে প্রবাসীরা বাংলাদেশে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, জমি ক্রয় কিংবা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় নাগরিকদের মতোই আইনি সুবিধা ভোগ করে থাকেন।

ঘরে বসেই মিলবে প্রবাসীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও এনভিআর সনদ

ইরাকে কর্মী নিয়োগ: তেল প্রকল্পে কাজ পেলেন

ঘরে বসেই মিলবে প্রবাসীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও এনভিআর সনদ

প্রবাস সেবা অ্যাপ আনছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *