আমিরাত প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের ‘রেড অ্যালার্ট’, ঘরে থাকার নির্দেশ

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে অবস্থানরত লাখো প্রবাসী বাংলাদেশিকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রণক্ষেত্রের সমীকরণ যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে ঢাকা এখন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দূতাবাসের এই নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।
নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর বিধিনিষেধ
আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জারি করা এই জরুরি নোটিশে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চলমান অস্থিরতা ও সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির কারণে প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিশেষ করে দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর মতো জনবহুল শহরগুলোতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা সীমিত করতে বলা হয়েছে।
দূতাবাস পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই যেন প্রবাসীরা সামরিক স্থাপনা, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বা রাডার স্টেশনের আশপাশে অবস্থান না করেন। কারণ, চলমান সংঘাতে এই এলাকাগুলোই প্রধান লক্ষ্যবস্তু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া, খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করা বা জনসমাগমস্থলে ভিড় জমানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনার প্রধান দিকগুলো:
বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ: অতি জরুরি প্রয়োজন (যেমন চিকিৎসা বা জরুরি খাদ্য ক্রয়) ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না।
সামরিক স্থাপনা এড়ানো: সেনাক্যাম্প, বিমানবন্দর বা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের আশপাশ থেকে দূরে থাকতে হবে।
বাসায় অবস্থান: নিজ নিজ কর্মস্থল বা আবাসে অবস্থান করাকে সবচেয়ে নিরাপদ বলে গণ্য করা হচ্ছে।
গুজব প্রতিরোধ: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন খবর বিশ্বাস না করে কেবল স্থানীয় সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে।
যোগাযোগ: যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রবাসীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও রেমিট্যান্স সংকট
দীর্ঘ ১৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক ছোট-বড় সংকট কাভার করলেও, এবারের পরিস্থিতি অনেকটা নজিরবিহীন। আরব আমিরাতের মতো একটি স্থিতিশীল অর্থনীতির দেশে যখন দূতাবাসের পক্ষ থেকে এমন কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়, তখন বুঝতে হবে পরিস্থিতি সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি জটিল।
আমিরাতে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। তাদের বড় একটি অংশ নির্মাণ শিল্প ও সেবা খাতে নিয়োজিত। হঠাৎ করে ঘরবন্দী হয়ে পড়ায় তাদের আয় ও জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। অনেক প্রবাসী ফোন করে জানাচ্ছেন যে, আকাশপথে ফ্লাইট বন্ধ এবং চারদিকের বিস্ফোরণের শব্দে তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। যদি এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা রেমিট্যান্স প্রবাহে এক বিশাল ধস নামতে পারে।











