উদীয়মান মহাদেশে বাংলাদেশিরা: আফ্রিকাভিত্তিক প্রবাসীদের কর্মযজ্ঞ

প্রবাস বলতে এক সময় শুধু মরুভূমি বা পশ্চিমা বিশ্বকে বোঝানো হলেও, ২০২৬ সালে আফ্রিকা মহাদেশ বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এক বিশাল কর্মক্ষেত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে শুরু করে কেনিয়া, ইথিওপিয়া এবং নাইজেরিয়া—আফ্রিকার প্রায় ৩০টি দেশে বর্তমানে ৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। তাদের মেধা ও শ্রম আফ্রিকার দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ব্যবসা ও বাণিজ্যের কেন্দ্র আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। এখানকার খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায় বাংলাদেশিদের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ই-ভিসা চালু করায় যাতায়াত আরও সহজ হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিস্তৃত উর্বর জমি লিজ নিয়ে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ বা আধুনিক কৃষিকাজে সফল হয়েছেন। তবে দেশটিতে মাঝেমধ্যেই বিদেশি নাগরিকদের ওপর স্থানীয়দের আক্রমণ (জেনোফোবিয়া) প্রবাসীদের জন্য এক বড় আতঙ্কের নাম।
পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকায় নতুন বাজার ইথিওপিয়া ও কেনিয়ার ক্রমবর্ধমান টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পে বাংলাদেশি দক্ষ কারিগর ও ম্যানেজারদের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, নাইজেরিয়া ও ঘানায় বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা অবকাঠামো নির্মাণ ও টেলিকম খাতে কাজ করছেন। এমনকি কঙ্গো বা সুদান এর মতো দেশগুলোতে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে যাওয়া বাংলাদেশিদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায় যুক্ত বাংলাদেশিদের সংখ্যাও বাড়ছে।
চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি আফ্রিকায় কাজের পরিবেশ অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর আনাগোনা থাকায় প্রবাসীদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে। এছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও, অদম্য বাংলাদেশিরা প্রতিকূল পরিবেশ জয় করে আফ্রিকার অর্থনীতিতে নিজেদের অপরিহার্য করে তুলেছেন।











