নভেম্বর ৯, ২০২৬
#উত্তর আমেরিকা #দেশভিত্তিক নিউজ #মধ্যপ্রাচ্য

রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন খামেনি :তেহরানের পাল্টা দাবি

রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন খামেনি :তেহরানের পাল্টা দাবি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে জোরালো দাবি তোলা হয়েছিল, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খামেনি কেবল জীবিতই নন, বরং তিনি বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

গত কয়েক ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর তেহরান-সংশ্লিষ্ট একাধিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, খামেনি সুস্থ আছেন এবং তার কমান্ড সেন্টার থেকে প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই পাল্টাপাল্টি তথ্যের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যেমন বারুদের গন্ধে ভারী, তেমনি তথ্যযুদ্ধের কুয়াশায় আচ্ছন্ন।

শনিবার ভোররাত থেকে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনির মৃত্যুর খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি দাবির পর বিশ্বজুড়ে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এই খবরকে ‘পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা’ এবং ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, খামেনি বর্তমানে একটি সুরক্ষিত বাঙ্কার থেকে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন। তেহরান ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তিনি কেবল বেঁচে নেই, বরং তিনি ইসরায়েলি হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’-এর পরবর্তী ধাপের নির্দেশনা দিচ্ছেন। এই সংবাদের পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা দেখা গেছে।

খামেনি কেন তেহরানের শক্তির মূল ভিত্তি?

১৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং তিনি একটি ব্যবস্থার প্রতীক। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার মৃত্যু বা অনুপস্থিতি মানেই পুরো অঞ্চলের শিয়া জোটের নেতৃত্বের কাঠামোতে ধস নামা।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তেহরানের পক্ষ থেকে তার সক্রিয়তার সংবাদ প্রচার করা মূলত একটি শক্তিশালী বার্তা—ইরান এখনো ময়দান ছাড়েনি। যদি খামেনি সত্যিই বেঁচে থাকেন এবং জনসম্মুখে উপস্থিত হন, তবে তা হবে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা। অন্যদিকে, তেহরান যদি কেবল সময়ক্ষেপণের জন্য এই দাবি করে থাকে, তবে তা অচিরেই ধরা পড়বে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখান থেকে পেছনে ফেরার পথ খুব সংকীর্ণ। একদিকে ইসরায়েল তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে মরিয়া, অন্যদিকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *