নভেম্বর ৯, ২০২৬
#দেশভিত্তিক নিউজ #প্রিয় বাংলাদেশ #মধ্যপ্রাচ্য #রেমিট্যান্স

মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ!

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বাংলাদেশি প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত ও ওমানে লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কঠোর পরিশ্রম করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যই ছিল বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রধান গন্তব্য এবং এর ফলে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে।

সৌদি আরবে রেকর্ড শ্রমিক প্রেরণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

২০২৫ সালে সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ করেছে। ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি) এর তথ্যমতে, গত বছর সৌদিতে গেছেন প্রায় ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭১৫ জন বাংলাদেশি। এটি একক দেশে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৬% বেশি। সৌদি ভিশন ২০৩০ এর অধীনে নিওম, রেড সি প্রজেক্টসহ মেগা প্রকল্পগুলোতে নির্মাণ, টেকনিক্যাল ও অন্যান্য খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে এই চাহিদা আরও বাড়তে পারে এবং প্রায় ৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দুই দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো শ্রমিক প্রেরণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের মাইলফলক। এতে করে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সহজ হয়েছে। তবে কিছু সমস্যাও রয়েছে—যেমন আইকামা নবায়ন ফি নিয়ে অভিযোগ এবং কিছু ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী কাজ না পাওয়া। এসব সমাধানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড

২০২৫ সালে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেকর্ড ৩২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর বড় অংশই এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েত থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের ব্যবহার বেড়েছে, হুন্ডি কমেছে এবং সরকারের ২.৫% প্রণোদনা ও এক্সচেঞ্জ রেটের উন্নতির কারণে এই সাফল্য এসেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম কয়েক মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী রয়েছে। এটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে এবং টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ

যদিও সৌদি আরবে চাহিদা বাড়ছে, অন্যান্য দেশে (ইউএই, ওমান, মালয়েশিয়া) বাজার সংকুচিত হচ্ছে। ভিসা নিষেধাজ্ঞা, সৌদাইজেশন নীতি এবং শ্রমবাজারের পরিপূর্ণতার কারণে কিছু দেশে নতুন কর্মী যাওয়া কমেছে। এছাড়া প্রবাসীদের অধিকার, বেতন-ভাতা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে অভিযোগও থাকে।

আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যকর হওয়ায় (পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে) মধ্যপ্রাচ্যের লাখ লাখ প্রবাসী প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পারবেন। এ পর্যন্ত সৌদি থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন।

সার্বিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশি প্রবাসীরা শুধু পরিবারই নয়, পুরো দেশের অর্থনীতিকে টেনে নিয়ে চলেছেন। দক্ষতা বৃদ্ধি, নিরাপদ অভিবাসন ও বাজার বৈচিত্র্যকরণ করা গেলে এই খাত আরও শক্তিশালী হবে।

মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ!

বিদেশে চাকরি: বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ, চ্যালেঞ্জ ও

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *