ইউরোপে কম ট্যাক্স ও নিরাপদ জীবনযাত্রায় সেরা গন্তব্য অ্যান্ডোরা

অ্যান্ডোরায় বসবাস করার সুযোগ আন্তর্জাতিক প্রবাসী, উদ্যোক্তা এবং উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের কাছে বর্তমানে অন্যতম আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফ্রান্স এবং স্পেনের সীমান্ত সংলগ্ন আল্পস পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এই ছোট দেশটি শূন্য থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কর ব্যবস্থার কারণে ইউরোপের অনন্য ট্যাক্স-হেভেন হিসেবে পরিচিত। অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অতি নিম্ন অপরাধের হার এবং উচ্চমানের জীবনযাত্রার কারণে ইউরোপের বুকে দেশটি এক শান্তিপূর্ণ স্বর্গরাজ্য।
বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেখানে অতিরিক্ত করের বোঝার কারণে অর্জিত আয় ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে এই রাষ্ট্রটি দারুণ কর সুবিধা প্রদান করে। দেশটিতে প্রথম ২৪ হাজার ইউরো পর্যন্ত বার্ষিক আয়ে কোনো কর দিতে হয় না। এছাড়া মূলধন কর, উপহার কর বা উত্তরাধিকার কর পুরোপুরি অনুপস্থিত থাকায় আন্তর্জাতিক বিত্তবান ও বিনিয়োগকারীরা তাদের সম্পত্তি নিরাপদে গড়ে তোলার সুযোগ পান।
ব্যবসায়িক মুনাফা ও ব্যক্তিগত আয়ের ওপর সর্বনিম্ন কর আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সার, দূরবর্তী কর্মী এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখানে দিন দিন বাড়ছে। মাত্র ৪.৫ শতাংশ ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) থাকায় কেনাকাটা ও প্রাত্যহিক জীবনের ব্যয় অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী থাকে।
উচ্চমানের লাইফস্টাইল ছাড়াও নিরাপত্তার বিচারে দেশটি বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় অবস্থান করছে। এখানে সহিংস অপরাধের হার নেই বললেই চলে, ফলে পরিবার নিয়ে রাতে একা চলাফেরা করা কিংবা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত সহজ। পর্বত পরিবেষ্টিত পরিষ্কার পরিবেশ এবং উন্নত বায়ুসেবনের কারণে এখানকার নাগরিকদের গড় আয়ু বিশ্বে অন্যতম দীর্ঘ।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের কথা বলতে গেলে, দেশটির সিএএসএস (CASS) সর্বজনীন স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা ইউরোপের আধুনিকতম কাঠামোগুলোর একটি। হাসপাতালে চিকিৎসা, জটিল অস্ত্রোপচার এবং সাধারণ স্বাস্থ্য পরামর্শের খরচ বীমার আওতায় খুব সহজেই কভার করা যায়। সামাজিক ও রাজনৈতিক এই স্থায়িত্ব প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনকে করে তোলে নিশ্চিন্ত।
প্রবাসীদের জন্য এই দেশে বসবাস শুরুর জন্য প্রধানত দুটি পথ খোলা রয়েছে—একটি অ্যাক্টিভ রেসিডেন্সি এবং অপরটি প্যাসিভ রেসিডেন্সি। যারা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবেন বা নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করবেন, তারা অ্যাক্টিভ রেসিডেন্সির জন্য আবেদন জানাতে পারেন। নির্দিষ্ট পরিমাণ বার্ষিক আয় এবং স্থানীয় কাজের বৈধ চুক্তি থাকলে সরকারি অনুমতি পাওয়া সহজ হয়।
অন্যদিকে যারা রিমোট কাজ করেন বা নিজস্ব সঞ্চয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা রয়েছে, তাদের জন্য প্যাসিভ রেসিডেন্সি একটি আদর্শ ক্যাটাগরি। এ ক্ষেত্রে দেশে বছরে অন্তত ৯০ দিন শারীরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয় এবং নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ সরকারি আমানত হিসেবে জমা রাখতে হয়। উভয় ক্ষেত্রেই ক্লিন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ জমা দেওয়া আবশ্যক।
পরিবার স্থানান্তরিত করার ক্ষেত্রে বাসস্থান এবং সন্তানদের পড়াশোনা বড় বিবেচ্য বিষয়। দেশটির আন্তর্জাতিক স্কুলগুলোতে ফরাসি, স্প্যানিশ এবং ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদানের চমৎকার বন্দোবস্ত রয়েছে। বহুমাত্রিক ভাষা শেখানোর সংস্কৃতির কারণে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই বৈশ্বিক পরিমণ্ডলের উপযোগী হয়ে গড়ে ওঠে।
অ্যান্ডোরার আবাসন খাত বেশ উন্নত এবং সেখানে ফ্ল্যাট বা ভিলা ভাড়ার আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ। প্রতি বছর অনেক প্রযুক্তিবিদ, ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তা পাহাড়ি এই কোণে নিজেদের কাজের ঠিকানা বানিয়ে নিচ্ছেন। বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই স্পেনের বার্সেলোনা বা ফ্রান্সের তুলুস শহরের বিমানবন্দরে যাওয়া যায়।











