ইতালিফেরত প্রবাসীদের পেনশন দেশে ফেরাতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগে বড় স্বস্তি

ইতালিতে দীর্ঘদিন বৈধভাবে কাজ করে সামাজিক নিরাপত্তা কর (INPS) প্রদান শেষে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া কর্মীদের জমে থাকা পেনশনের অর্থ উত্তোলনের পথ অবশেষে সুগম হতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সামাজিক সুরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই চুক্তি চূড়ান্ত হলে প্রবাসীরা দেশে ফিরেও ইতালিতে জমা হওয়া পেনশনের মাসিক কিস্তি বা জমাকৃত তহবিল বাংলাদেশে বসেই আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে উত্তোলন করতে পারবেন।
ইতালির আইন অনুযায়ী, কোনো বৈদেশিক কর্মী যদি নিজ দেশে ফিরে যান, তাহলে তার জমাকৃত পেনশনের অর্থ সাধারণত সেই দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমেই উত্তোলন করতে হয়। কিন্তু দ্বিপাক্ষিক সামাজিক সুরক্ষা চুক্তি না থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হয়। ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৫ সালে দ্বৈত কর পরিহারের একটি চুক্তি থাকলেও , পেনশন সংক্রান্ত এই বিশেষ সুবিধাটি নিশ্চিত করতে নতুন করে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইতালিফেরত হাজারো বাংলাদেশি কর্মী উপকৃত হবেন, যারা বছরের পর বছর ধরে ইনপিএস-এ অর্থ জমা রেখেছেন কিন্তু দেশে ফেরার পর সেই অর্থ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন।
সূত্র অনুযায়ী, এই চুক্তির প্রধান সুবিধা হবে পেনশনের অর্থের সরাসরি হস্তান্তরযোগ্যতা। প্রবাসীরা বাংলাদেশে বসেই ইতালির পেনশন তহবিল থেকে মাসিক ভাতা বা এককালীন জমাকৃত অর্থ নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গ্রহণ করতে পারবেন। এর ফলে বিদেশে ফের যোগাযোগের ঝামেলা বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অর্থ আনার মতো জটিলতা কমবে। পাশাপাশি, এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ভবিষ্যতে ইতালিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্যও সামাজিক নিরাপত্তার একটি আইনি কাঠামো তৈরি হবে, যা তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখবে।
পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইতালি সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। চুক্তির খসড়া তৈরি করে শিগগিরই উভয় পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে বলে মনে করছেন কমিউনিটি নেতারা। তারা বলছেন, ইতালিতে বাংলাদেশি কর্মীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য এবং তাদের অনেকেই দীর্ঘ বছর কাজ করে দেশে ফিরে যান। এই চুক্তি তাদের বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।










