নিউজিল্যান্ড স্কিলড মাইগ্রেশন: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী রেসিডেন্সি এখন আরও সহজ

নিউজিল্যান্ড স্কিলড মাইগ্রেশন ব্যবস্থায় নতুন নীতি কার্যকর করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য স্থায়ী আবাসন বা স্থায়ী রেসিডেন্সির (PR) পথ অনেক বেশি সহজ করেছে সেদেশের সরকার। নতুন সংস্কারে নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারীদের জন্য অতিরিক্ত পয়েন্ট বরাদ্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী অভিবাসনের আবেদন জানানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাজের অভিজ্ঞতার শর্তাবলিও আগের চেয়ে বেশ শিথিল করা হয়েছে, যা বর্তমান ও ভাবি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিরাট আশার আলো ছড়িয়েছে।
প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান গন্তব্য নিউজিল্যান্ড তাদের স্কিলড মাইগ্রেন্ট ক্যাটাগরি (SMC) রেসিডেন্ট ভিসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হল আন্তর্জাতিক শিক্ষায় বিশ্বমানের প্রতিযোগিতা ধরে রাখা এবং দেশটিতে পড়াশোনা করা বিদেশি তরুণ দক্ষ মেধাবীদের দেশের ভেতরেই রেখে দেওয়া।
অভিবাসন বিভাগের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, নতুন অভিবাসন নীতিতে কেবল সাধারণ পয়েন্ট ভিত্তিক ভিসা নয়, বরং সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে রেসিডেন্সির নতুন সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এতে করে যেকোনো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসায় কাজ শুরু করলে খুব দ্রুতই স্থায়ী আবাসন ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারবেন।
নিউজিল্যান্ডে ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের আগে যেখানে সমান মেয়াদের পয়েন্ট পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, এখন নিউজিল্যান্ডের নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েটরা পয়েন্ট টেবিলে বাড়তি প্রাধান্য পাবেন। পাশাপাশি ভিসা আবেদনের শর্ত পূরণের জন্য স্থানীয় কর্মসংস্থানের যে সময়সীমা নির্ধারিত ছিল, সেটিও কমিয়ে আনা হয়েছে।
পূর্বে নির্ধারিত পয়েন্ট অর্জনে যেখানে তিন বছর পর্যন্ত স্থানীয় কাজের অভিজ্ঞতা লাগত, এখন অনেক ক্ষেত্রে দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন সম্ভব হবে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে করে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই নির্দিষ্ট লক্ষ্য রেখে পড়ালেখার পর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারবেন। ফলে নিউজিল্যান্ড স্কিলড মাইগ্রেশন প্রক্রিয়ায় বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়ে গেছে।
পয়েন্ট ভিত্তিক প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে ‘স্কিলড ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স পাথওয়ে’ এবং ‘ট্রেডস অ্যান্ড টেকনিশিয়ান পাথওয়ে’ নামের নতুন দুই ক্যাটাগরি চালু করা হয়েছে। এই বিশেষ ক্যাটাগরিতে নির্দিষ্ট দক্ষ পেশায় সময়ানুযায়ী চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে জটিল পয়েন্ট গণনা ছাড়াই স্থায়ী রেসিডেন্সির আবেদন করা যাবে।
তাছাড়া, ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সময় পূর্বে উচ্চ মাত্রার বেতন কাঠামো অর্জনের যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা শিথিল করা হয়েছে। নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, চাকরির সময়জুড়ে জাতীয় গড় মজুরি ধরে রাখলেই স্থায়ী রেসিডেন্সির আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে। এতে করে নিয়মিত বেতনের চাকরি করা সাধারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্থায়ী অভিবাসনের স্বপ্ন পূরণ বেশ বাস্তবসম্মত রূপ নিয়েছে।











