পর্তুগাল রেসিডেন্স কার্ড: লিসবন ও পোর্তোতে বিশেষ ক্যাম্প

অভিবাসন সংস্থা আইমা (AIMA)-এর অধীনে জমে থাকা লক্ষাধিক ফাইলের জট কাটাতে পর্তুগালের লিসবন ও পোর্তো শহরে শুরু হয়েছে বিশেষ কনস্যুলার ও ডকুমেন্টেশন ক্যাম্প। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনলাইনে আবেদনের স্লিপ পাওয়া অভিবাসীদের সরাসরি সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে পর্তুগাল রেসিডেন্স কার্ড বা বায়োমেট্রিক কার্ড বিতরণ করছে দেশটির প্রশাসন।
পর্তুগালে বৈধভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছর হাজারো মানুষ পাড়ি জমান। বিগত কয়েক বছরে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ধীরগতি চরম আকার ধারণ করেছিল। বিশেষ করে পূর্ববর্তী সংস্থা সেফ (SEF) বিলুপ্ত করে এজেন্সি ফর ইন্টিগ্রেশন, মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম সংক্ষেপে আইমা গঠনের পর প্রশাসনিক পটপরিবর্তনে ফাইলের পাহাড় জমে যায়। নতুন আবেদনকারীদের পাশাপাশি পুরোনো প্রার্থীরাও চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্তুগিজ প্রশাসন এবার সরাসরি মাঠে নেমেছে। বিশেষ এই ক্যাম্পগুলোর মূল লক্ষ্য হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে আটকে থাকা আবেদনগুলোর সফল নিষ্পত্তি করা।
লিসবন ও পোর্তোর মতো বড় শহরগুলোতে অভিবাসীদের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে প্রথম ধাপে এই দুই শহরেই সমাধানের কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। যেসব আবেদনকারী দীর্ঘদিন ধরে কেবল একটি অনলাইন স্লিপ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন, তাদের নির্দিষ্ট তারিখে ডেকে সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। নথিপত্র যাচাই শেষে যোগ্য বিবেচিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে কার্ড ছাপানোর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দৈনিক শত শত ফাইল যাচাই করছেন। এতে মাসের পর মাস বা বছর জুড়ে থাকা অপেক্ষার প্রহর অনেকটাই কমে আসছে। আগে যেখানে একটি কার্ড হাতে পেতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেত, সেখানে সরাসরি ক্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে প্রবাসীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত আইনি স্বীকৃতি পাচ্ছেন।
পর্তুগালের এই নতুন পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। যেসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মী দীর্ঘ সময় ধরে বৈধতার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী স্বস্তির খবর। পর্তুগিজ বাংলা কমিউনিটির নেতারা জানিয়েছেন, আইমার এই ক্যাম্পের ফলে বহু বাংলাদেশির স্থায়ী বৈধতার পথ সুগম হচ্ছে। কার্ড হাতে পেলে প্রবাসীরা শুধু পর্তুগালেই নয়, বরং শেনজেনভুক্ত অন্যান্য দেশেও সহজে যাতায়াত এবং উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।











