প্যারিস ও রোমে অনিয়মিত অভিবাসীদের রেগুলারাইজেশন আন্দোলন: আশা ও আশঙ্কার দোলাচল

ইউরোপের দুই প্রধান শহর প্যারিস ও রোমে অনিয়মিত অভিবাসীদের রেগুলারাইজেশন ও কাজের অনুমতি চেয়ে জোরালো আন্দোলন শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্রের অভাবে অনিশ্চয়তায় দিন কাটানো হাজার হাজার প্রবাসী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো একযোগে রাজপথে নেমে এসেছে। অধিকার আদায়ের এই লড়াই একদিকে যেমন আইনি বৈধতা পাওয়ার নতুন দুয়ার খুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের সামনে তৈরি করছে ডিপোর্টেশনের প্রত্যক্ষ ঝুঁকি।
ইউরোপের দেশগুলোতে বছরের পর বছর ধরে বসবাস করলেও একটি স্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট বা আইনি কাগজের অভাবে চরম অবহেলার শিকার হতে হয় অনিয়মিত অভিবাসীদের। আবাসন, উপযুক্ত বেতন, চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত এসব মানুষ এখন নিজেদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় একতাবদ্ধ হয়েছেন।
প্যারিস ও রোমের রাজপথে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে প্রবাসীদের এই বিক্ষোভ দেশটির নীতিপ্রণেতাদের নজর কেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে শ্রমশক্তির ঘাটতি থাকায় অভিবাসীদের এই দাবিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারছে না স্থানীয় সরকারগুলো।
ইউরোপে বছরের পর বছর ধরে অনিয়মিতভাবে বসবাস করা প্রবাসীদের জন্য অনিয়মিত অভিবাসীদের রেগুলারাইজেশন আন্দোলন এক বড় আশার আলো হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আন্দোলনের মুখে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর চাপের কারণে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারগুলো বিশেষ আইনি পর্যালোচনার ইতিবাচক আশ্বাস দিচ্ছে।
আইনি বৈধতা বা রেগুলারাইজেশন প্রক্রিয়া সফল হলে প্রবাসীরা ফ্রান্সে ‘তিত্রে দে সেজোর’ এবং ইতালিতে ‘সোজর্নে’ অর্জনের সুযোগ পাবেন। এর ফলে তারা আইনিভাবে কাজ করার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা ও নাগরিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করতে পারবেন।
অধিকার আদায়ের এই আন্দোলন যেমন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, তেমনি এর পেছনের ঝুঁকিও কম নয়। বিভিন্ন দেশে পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহের ফলে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ছে।
বিক্ষোভকালে যদি কারো নাম বা বায়োমেট্রিক তথ্য পুলিশি নথিতে নিবন্ধিত হয়ে যায়, তবে পরবর্তী সময়ে তাকে চিহ্নিত করা সহজ হয়ে পড়ে। এর ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় কাগজ পাওয়ার বদলে সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা ডিপোর্টেশনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়।











