যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী রেসিডেন্সির পেতে ইবি-ফাইভ বিনিয়োগ ভিসা

যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রিন কার্ড অর্জনের লক্ষ্যে ইবি-ফাইভ বিনিয়োগ ভিসা এখন বিশ্বজুড়ে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসী ও উদীয়মান উদ্যোক্তাদের অন্যতম পছন্দের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। প্রথাগত এইচ-ওয়ানবি (H-1B) বা স্টুডেন্ট ভিসায় নানা ধরনের নীতিগত সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে এই বিশেষ পথটির প্রতি প্রবাসীদের ঝোঁক দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগের মাধ্যমে কেবল নিজের নয়, বরং পরিবারসহ স্থায়ী বসবাসের নিশ্চিত সুযোগ দিচ্ছে মার্কিন সরকারের এই বিশ্বস্ত ইমিগ্রেশন প্রোগ্রাম।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) পরিচালিত এই ইবি-৫ প্রোগ্রামটি মূলত মার্কিন অর্থনীতিতে সরাসরি বৈদেশিক অর্থপ্রবাহ বাড়াতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ডিজাইন করা হয়েছিল। এর আওতায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশটির চিহ্নিত লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসংস্থান এলাকা বা টিইএ (Targeted Employment Area) প্রকল্পে ৮ লাখ ডলারের ন্যূনতম মূলধন বিনিয়োগ করার মাধ্যমে পরিবারের জন্য স্থায়ীভাবে বাস করার আবেদন জমা দিতে পারেন।
অন্যান্য সাধারণ বাণিজ্যিক অঞ্চলে সরাসরি বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বেশি হলেও নির্দিষ্ট আঞ্চলিক কেন্দ্র বা রিজিওনাল প্রজেক্টের মাধ্যমে কাজ করলে আইনি প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ হয়। বিনিয়োগকৃত অর্থের বৈধ উৎস ও ট্যাক্স ফাইলিং সম্পর্কিত যাবতীয় কাগজপত্র স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করতে পারলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খুব দ্রুত শর্তসাপেক্ষ গ্রিন কার্ডের প্রাথমিক অনুমোদন মিলে যায়।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীরা এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসার লটারি জট এবং বছরজুড়ে ব্যাকলগের কারণে চরম মানসিক চাপে থাকেন। একইভাবে পড়াশোনা শেষ করার পর স্থায়ী আবাসন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তায় ভোগেন বহু মেধাবী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতিতে বিত্তশালী প্রবাসী পরিবারগুলো সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সরাসরি এই মূলধনভিত্তিক ক্যাটাগরির দ্বারস্থ হচ্ছেন।
এই ভিসা ব্যবস্থার মূল সুবিধা হলো, এতে যুক্ত হলে আবেদনকারী বা তার সন্তানদের কোনো নির্দিষ্ট চাকরিদাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে দিন গুনতে হয় না। তারা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে নিজেদের স্বাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন অথবা পছন্দের যেকোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।
মার্কিন অভিবাসন নীতি অনুযায়ী, একজন বিনিয়োগকারীর মূলধন দিয়ে অন্তত ১০ জন মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হতে হয়। সাধারণত স্বীকৃত ইমিগ্রেশন রিজিওনাল সেন্টারগুলোর অধীনে থাকা বড় বড় বাণিজ্যিক ভবন, হাসপাতাল কিংবা বিশ্বমানের অবকাঠামোগত প্রজেক্টগুলো এই কর্মসংস্থানের শর্ত আইনগতভাবে পূরণ করে থাকে।
তবে যেকোনো আর্থিক বিনিয়োগের সাথে কিছু বাস্তবিক ঝুঁকি যুক্ত থাকে। তাই দক্ষ ইমিগ্রেশন আইনজীবী এবং স্বাধীন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মাধ্যমে প্রজেক্টের পূর্ববর্তী রেকর্ড যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। মার্কিন সরকার অনুমোদিত এবং স্বনামধন্য রিজিওনাল সেন্টারে সঠিক আইনি প্রক্রিয়ায় অর্থ বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মাত্রা অনেকটাই কমে আসে।
বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ীরা দুবাই, ইউরোপ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে নিজেদের অর্জিত মূলধন যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাবনাময় খাতে স্থানান্তরিত করছেন। বিশেষ করে যাদের প্রধান লক্ষ্য সন্তানদের বিশ্বের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করানো এবং সেখানে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়া, তারা এই পদ্ধতিকে সেরা বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
ভুল তথ্য কিংবা মধ্যস্বত্বভোগীদের অপপ্রচার থেকে দূরে থেকে সরাসরি ইউএসসিআইএস (USCIS) নিবন্ধিত অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিদের সাথে আলোচনা করে প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া শ্রেয়। মূলধনের সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন ও নির্ভরযোগ্য প্রকল্প বাছাইয়ের মাধ্যমেই কেবল আমেরিকান গ্রিন কার্ড পাওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।











