নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ #দক্ষিণ আমেরিকা

‘সিইটিএ’ পেরিয়ে ‘অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার’ যুগে ইইউ-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য

ঐতিহাসিক সিইটিএ (CETA) চুক্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে ইইউ-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য। গত বুধবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ‘অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার’ শীর্ষক নতুন কৌশলগত ফ্রন্ট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মার্কিন শুল্কনীতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকট মোকাবিলায় উভয় পক্ষই বাণিজ্য ও নিরাপত্তার সমন্বিত বলয় গড়ে তুলতে চাইছে।

২০১৬ সালে স্বাক্ষর হওয়া ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ বা সিইটিএ ছিল আটলান্টিকের দুই পারের সম্পর্কের প্রথম বড় অর্থনৈতিক ভিত্তি। এর ফলে দুই পক্ষের বাণিজ্য প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯১ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। তবে বর্তমান প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে কেবল শুল্ক ছাড় দেওয়াই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকরা। তাই ইইউ-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থাকে হালনাগাদ করে ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্ভাবনমুখী শিল্পের সাথে যুক্ত করা হচ্ছে।

নতুন এই ‘অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার’ কাঠামোর অধীনে বাণিজ্য সুবিধার ব্যাপ্তি অনেক বাড়বে। আর্কিটেক্ট, হিসাবরক্ষক ও প্রকৌশলীদের পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতি দিয়ে দুই দেশের সেবা খাতকে আরও উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এটি দুই বাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান টানাপোড়েনে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষা করা এখন ব্রাসেলস ও অটোয়ার প্রধান অগ্রাধিকার। বৈদ্যুতিক যানবাহন, ডেটা সেন্টার ও নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য প্রয়োজনীয় দুর্লভ খনিজ সরবরাহে কানাডার ওপর নির্ভরতা বাড়াতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অন্যদিকে ইউরোপের উন্নত প্রযুক্তি ও সামরিক শিল্প উৎপাদনে সরাসরি অংশ নেবে কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও সাইবার নিরাপত্তার মতো উদীয়মান খাতে যৌথ নীতি প্রণয়ন ও অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওয়াশিংটনের একতরফা অর্থনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হালনাগাদকৃত ইইউ-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য মডেলটি বিশ্ব রাজনীতির অন্যান্য মধ্যম শক্তির দেশগুলোর জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে।

ওমানে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ

কানাডার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের দরজা খুলছে ?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *