নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ #মালয়েশিয়া

অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশীদের জন্য রিটায়ারমেন্ট ভিসা ও উন্নত দেশে বসবাসের সুযোগ

কর্মজীবন শেষে নিশ্চিন্তে কাটানোর জন্য রিটায়ারমেন্ট ভিসা বর্তমানে বয়স্ক ও অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশীদের কাছে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল ও পানামার মতো একাধিক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ প্রবীণ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সরকারি আবাসন স্কিম অফার করছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চয়, পেনশন বা নিষ্ক্রিয় আয়ের প্রমাণ দেখিয়ে এসব দেশে পরিবারসহ স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের আইনি অধিকার অর্জন করা যায়।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড অবসরপ্রাপ্ত প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি গন্তব্য। মালয়েশিয়া সরকারের ‘মাই দ্বিতীয় হোম’ বা এমএম২এইচ কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ ফিক্সড ডিপোজিট রেখে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। আবহাওয়ার চমৎকার সামঞ্জস্য এবং কম খরচে মানসম্পন্ন জীবনযাত্রার কারণে এই স্কিমটি আন্তর্জাতিক প্রবীণদের কাছে দারুণ সাড়া ফেলেছে।

অন্যদিকে থাইল্যান্ড ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী বিদেশীদের জন্য ১০ বছর মেয়াদী বিশেষ লং-টার্ম রেসিডেন্ট ভিসা প্রদান করছে। দেশটির বিশ্বমানের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর আধুনিক চিকিৎসা সেবা আন্তর্জাতিক নাগরিকদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জমা অর্থ কিংবা মাসিক পেনশনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেই এই ভিসার অনুমোদন পাওয়া সহজ হয়ে ওঠে।

ইউরোপ মহাদেশে শান্তিতে অবসর জীবন কাটাতে চাইলে পর্তুগাল ও স্পেন প্রবাসী বাংলাদেশীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। পর্তুগালের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘ডি-সেভেন’ ভিসা মূলত অবসরপ্রাপ্ত ও নিষ্ক্রিয় আয়ের অধিকারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এই স্কিমে আবেদনকারীকে সরাসরি রিয়েল এস্টেট বা স্থানীয় সংস্থায় বিপুল পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ করতে হয় না, বরং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত আইনি আয়ের তথ্য দেখালেই আবেদন গ্রহণযোগ্য হয়।

পর্তুগালে পাঁচ বছর সফলভাবে বসবাস করার পর আবেদনকারীরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্থায়ী রেসিডেন্সি বা পাসপোর্টের জন্য আবেদনের আইনি যোগ্যতা অর্জন করেন। স্পেনের ‘নন-লুকরেটিভ ভিসা’ একইভাবে স্থানীয় ব্যবসায় জড়ানো ব্যতিরেকে নির্দিষ্ট আর্থিক স্বচ্ছলতার শর্তে বসবাসের অনুমতি দেয়। মনোরম আবহাওয়া, ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং অত্যন্ত নিরাপদ জীবনযাত্রার কারণে এই দেশগুলো বিশ্বজুড়ে প্রবীণদের সেরা পছন্দ।

এশিয়া ও ইউরোপের বাইরে গিয়ে বিকল্প গন্তব্য খুঁজতে চাইলে পানামা ও কস্টারিকার পেনশন স্কিমগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। পানামার ‘পেনসিওনাদো’ (Pensionado) প্রোগ্রাম বিশ্বব্যাপী অবসরপ্রাপ্তদের জন্য অন্যতম সেরা সরকারি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত। মাত্র এক হাজার ডলার বা সমপরিমাণ টাকার মাসিক স্বকীয় পেনশন প্রমাণ করতে পারলে এই দেশে দ্রুত স্থায়ী আবাসন লাভ করা যায়।

এই বিশেষ ব্যবস্থার অধীনে পানামায় বসবাসকারী প্রবীণরা ওষুধপত্র, চিকিৎসা ফি, পরিবহন টিকিট ও বিনোদনমূলক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সরকারি ছাড় পেয়ে থাকেন। ক্যারিবীয় উপকূলের শান্ত পরিবেশ ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অবসরকালীন মানসিক শান্তি বজায় রাখতে অবদান রাখে। কর্মজীবনের জমানো অর্থ দিয়ে এসব দেশে নিজের মতো করে একটি সুন্দর দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করা সম্ভব।

যেকোনো উন্নত দেশে রিটায়ারমেন্ট ভিসা পাওয়ার মূল পূর্বশর্ত হলো নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা ও সচ্ছলতার নিরবচ্ছিন্ন প্রমাণ প্রস্তুত রাখা। সাধারণত এসব ভিসায় আবেদনকারীদের স্থানীয় শ্রমবাজারে কোনো বেতনভুক্ত চাকরি বা ব্যবসায়িক পদে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। তাই সঞ্চিত ব্যাংক ব্যালেন্স, বাণিজ্যিক প্রপার্টির ভাড়া বা বিভিন্ন বন্ড থেকে আসা আয়ের সুনির্দিষ্ট বিবরণ জমা দিতে হয়।

এর পাশাপাশি আবেদনকারী ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক হেলথ ইন্স্যুরেন্স বা চিকিৎসা বীমা থাকা আবশ্যক। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন নীতি, স্থানীয় জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ফান্ড স্থানান্তরের আইনি নিয়মকানুন ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক দিকনির্দেশনা ও পূর্বপ্রস্তুতি থাকলে প্রবীণ বয়সে প্রবাসে স্বস্তিদায়ক আবাসন গড়ে তোলা এখন অনেকটাই সহজ।

অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশীদের জন্য রিটায়ারমেন্ট ভিসা ও উন্নত দেশে বসবাসের সুযোগ

উচ্চ আয় ও অভিজাত লাইফস্টাইল: সান মারিনো

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *