ইউরোপে অবাধ যাতায়াত: সেনজেন ট্রাভেল এডভান্টেজ ও এর সঠিক আইনি নিয়ম

সেনজেন ট্রাভেল এডভান্টেজ গ্রহণ করে ইউরোপের যেকোনো ছোট দেশে শিক্ষার্থী বা কর্মী হিসেবে পৌঁছাতে পারলে ২৯টি সেনজেনভুক্ত দেশে অবাধ চলাচলের আইনি দরজা খুলে যায়। বিশাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমানাহীন ভৌগোলিক স্বাধীনতার কারণেই প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি ছোট দেশগুলোকে ইউরোপে প্রবেশের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। সঠিক নিয়মকানুন ও রেসিডেন্স পারমিটের সঠিক ব্যবহার জানলে ইউরোপের এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ সম্পূর্ণ আইনি ও ঝামেলামুক্ত হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহুল আলোচিত সেনজেন চুক্তির অধীনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ভৌগোলিক সীমান্ত তল্লাশি তুলে নেওয়া হয়েছে। এর মূল সুবিধা হলো, আপনি যদি সেনজেনভুক্ত যেকোনো একটি দেশে বৈধ স্টুডেন্ট ভিসা, জব ভিসা কিংবা অস্থায়ী রেসিডেন্স পারমিট (TRC) পান, তবে অন্যান্য দেশে কোনো আলাদা ভিসা ছাড়াই যাতায়াত করতে পারবেন। বাংলাদেশ থেকে যারা ইউরোপ যেতে চান, তাদের জন্য এই অভ্যন্তরীণ সীমান্তহীন ব্যবস্থা বিশাল এক সুযোগ তৈরি করে দেয়।
বর্তমানে ইউরোপের সেনজেনভুক্ত দেশের সংখ্যা ২৯টিতে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রথম আবেদনে জার্মানি, ফ্রান্স বা ইতালির মতো বড় দেশগুলোতে কঠিন ভিসা প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। পক্ষান্তরে হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, লিথুয়েনিয়া বা এস্তোনিয়ার মতো ছোট দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও কাজের পারমিট পাওয়ার জটিলতা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে কৌশলী অভিবাসীরা শুরুতেই এসব দেশে পাড়ি জমান এবং সেখান থেকে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে নিজেদের পথ সুগম করেন।
এই প্রক্রিয়ায় যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি মাথায় রাখতে হয় তা হলো ‘৯০/১৮০ দিনের আইনি নিয়ম’। এই বিশ্বখ্যাত নিয়মের আওতায়, আপনার মূল রেসিডেন্স পারমিট প্রদানকারী দেশের বাইরে অন্য যেকোনো সেনজেন সদস্য রাষ্ট্রে আপনি প্রতি ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত পর্যটক বা দর্শনার্থী হিসেবে অবস্থান করতে পারবেন। এটি কেবল ইউরোপজুড়ে অবাধ ঘোরাঘুরি, বাণিজ্য সংক্রান্ত ভ্রমণ বা বন্ধুদের সাথে দেখা করার জন্য অনুমোদিত।
আইন অমান্য করে যদি কেউ এই নির্ধারিত ৯০ দিনের চেয়ে বেশি সময় অন্য দেশে কাটান, তবে তিনি চরম আইনি ঝুঁকির মুখে পড়বেন। অবৈধ অবস্থান বা ওভারস্টে করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রবাসীর মূল রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করা হতে পারে, এমনকি পুরো সেনজেন অঞ্চল থেকে কয়েক বছরের জন্য স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ বা ব্ল্যাকলিস্ট করা হতে পারে। তাই ভ্রমণের স্বাধীনতা পাওয়ার সাথে সাথে প্রতিটি দিনের হিসাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা প্রবাসীদের জন্য আবশ্যক।
একটি ছোট দেশে পা রাখার পর অনেক শিক্ষার্থী বা তরুণ কর্মীদের স্বপ্ন থাকে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস বা সুইজারল্যান্ডের মতো উচ্চ আয়ের দেশে স্থায়ী হওয়া। আইনি প্রক্রিয়ায় এক দেশের রেসিডেন্স পারমিট দিয়ে অন্য দেশে সরাসরি চাকরি করা বা পড়াশোনা করা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিক দেশে অবস্থানকালেই দ্বিতীয় দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেটার অফ একসেপ্টেন্স বা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কাজের অফার লেটার জোগাড় করা যায়।
স্বদেশ থেকে সরাসরি বড় দেশের ভিসা পাওয়ার চেয়ে সেনজেন অঞ্চলের ভেতর থেকে দ্বিতীয় দেশে ভিসা স্থানান্তর বা পারমিট পরিবর্তনের আবেদন করা অনেক বেশি সহজ। সংশ্লিষ্ট দেশের প্রবাসীদের স্থানীয় ইমিগ্রেশন অফিসে সরাসরি কাগজ জমা দেওয়ার সুযোগ থাকে। এই আইনি নমনীয়তা থাকার কারণেই হাজার হাজার শিক্ষার্থী ছোট দেশের নামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়ে প্রাথমিক পাঠ শেষ করেন এবং পরবর্তীতে উচ্চতর ডিগ্রি বা সেরা ক্যারিয়ারের জন্য ইউরোপের শীর্ষ শক্তিশালী অর্থনীতিগুলোতে চলে যান।











