স্টুডেন্ট ওয়ার্ক পারমিট: কোন দেশে সপ্তাহে কত ঘণ্টা কাজের সুযোগ ও আয়ের বাস্তব চিত্র

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ওয়ার্ক পারমিট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার মাধ্যমে তারা পড়াশোনার পাশাপাশি বৈধভাবে পার্ট টাইম কাজ করার সুযোগ পায়। বিদেশে জীবনযাত্রার খরচ চালানো এবং কিছুটা আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে এই কাজের অনুমোদন দারুণ ভূমিকা রাখে। তবে একেক দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পার্ট টাইম কাজের সময়সীমা এবং ঘণ্টাপ্রতি সর্বনিম্ঘ মজুরি বা মিনিমাম ওয়েজ (Minimum Wage) নিয়ে আলাদা আইনি বিধান রয়েছে। বিভিন্ন জনপ্রিয় স্টাডি ডেস্টিনেশনে স্টুডেন্ট ওয়ার্ক পারমিটের নিয়ম ও আয়ের আসল হিসাব নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
যুক্তরাজ্য (UK):
যুক্তরাজ্যে ডিগ্রি লেভেলে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার চলাকালীন সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। তবে সেমিস্টার ব্রেক বা অফিসিয়াল ছুটির সময় ফুলটাইম (সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা) কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ঘণ্টাপ্রতি জাতীয় ন্যূনতম মজুরি (National Minimum Wage) ২১ বছর বা তার বেশি বয়সের জন্য প্রায় ১২.৭১ পাউন্ড। নিয়মিত ২০ ঘণ্টা কাজ করলে একজন শিক্ষার্থী মাসে প্রায় ৭৫০ থেকে ১,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করতে পারেন, যা তাদের জীবনযাত্রার খরচের বড় একটি অংশ মেটাতে সাহায্য করে।
কানাডা (Canada):
কানাডায় আগে অফ-ক্যাম্পাসে ২০ ঘণ্টা কাজের সুযোগ থাকলেও সম্প্রতি নতুন নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ক্লাসের দিনগুলোতে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা অফ-ক্যাম্পাস কাজ করতে পারছেন। আর সেমিস্টার বিরতিতে ফুলটাইম কাজের সুযোগ তো রয়েছেই। দেশটিতে প্রভিন্স বা প্রদেশভেদে সর্বনিম্ন মজুরি কিছুটা ভিন্ন হলেও এটি ঘণ্টাপ্রতি সাধারণত ১৫.৭৫ থেকে ১৭.৪০ কানাডিয়ান ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। একজন শিক্ষার্থী পার্ট টাইম কাজ করে মাসে প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৭০০ কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত উপার্জন করতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়া (Australia):
স্টুডেন্ট ওয়ার্ক পারমিট নিয়মের দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বজুড়ে বেশ পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। এখানে শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার চলাকালীন প্রতি পাক্ষিকে (১৪ দিনে) ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার আইনি বৈধতা পান। অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি প্রায় ২৪.৮০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পার্ট টাইম পে-রেট। নিয়মিত ৪৮ ঘণ্টার কোটা পূরণ করে কাজ করলে প্রতি মাসে আনুমানিক ১,৮০০ থেকে ২,৪০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় করা সম্ভব।
জার্মানি (Germany):
জার্মানিতে কাজের নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। এখানে সাপ্তাহিক ঘণ্টার পরিবর্তে বার্ষিক দিন হিসাব করা হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ১৪০টি পূর্ণ দিন (Full Days) বা ২৮০টি অর্ধেক দিন (Half Days) কাজ করার অনুমতি পান। কাজের ক্ষেত্রে জার্মানির জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি প্রায় ১৩.৯০ ইউরো। শিক্ষার্থীরা যদি ‘ওয়ার্কস্টুডেন্ট’ (Werkstudent) হিসেবে কাজ করেন, তবে তারা পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতি মাসে প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ ইউরো পর্যন্ত আয় করতে সক্ষম হন।
যুক্তরাষ্ট্র (USA):
আমেরিকায় F-1 ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের নিয়ম বেশ কঠোর। প্রথম বছরে অফ-ক্যাম্পাসে সরাসরি কাজ করার সুযোগ থাকে না, শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর (On-Campus) সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজের অনুমতি মেলে। তবে গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় ক্যাম্পাসে ফুলটাইম কাজ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যভেদে ন্যূনতম মজুরি আলাদা, সাধারণত তা ঘণ্টাপ্রতি ৭.২৫ ডলার থেকে ১৫ ডলার বা তার বেশি হয়ে থাকে। দ্বিতীয় বছর থেকে শর্তসাপেক্ষে CPT বা OPT-এর মাধ্যমে অফ-ক্যাম্পাস কাজের সুযোগ তৈরি হয়।











