কানাডা ও যুক্তরাজ্যে ডিজিটাল ট্যাক্স রিটার্ন কড়াকড়ি: সুবিধা ও ঝুঁকি প্রবাসীদের জন্য

কানাডা ও যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী প্রবাসীদের জন্য ডিজিটাল ট্যাক্স রিটার্ন ও ওভারসিজ ইনকাম ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করায় আন্তর্জাতিক কর ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই নতুন ডিজিটাল তদারকি একদিকে যেমন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দ্রুত পাওয়ার পথ সহজ করছে, অন্যদিকে ভুল তথ্য বা তথ্য গোপনের ক্ষেত্রে ডেকে আনছে বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি ঝুঁকি। উভয় দেশের রাজস্ব কর্তৃপক্ষ এখন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশীয় ও বৈদেশিক আয়ের হিসাব নজরদারিতে রাখছে।
কানাডা ও যুক্তরাজ্যের রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবাসীদের জন্য এখন শতভাগ অনলাইননির্ভর। এর ফলে যারা নিয়ম মেনে নিয়মিত ডিজিটাল ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিচ্ছেন, তারা সরকারি সেবায় অভূতপূর্ব সুবিধা পাচ্ছেন।
বিশেষ করে অবসরকালীন পেনশন দাবি, সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তা লাভ কিংবা নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রবাসীদের আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কিংবা মাসজুড়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। সবকিছু ক্লাউড ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকায় প্রশাসনিক কাজগুলো এখন রেকর্ড সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বিদেশের মাটিতে বসে নিজ দেশ কিংবা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক উৎসের আয় গোপন করার দিন শেষ। ডিজিটাল নেটওয়ার্কিং ও ব্যাংকিং ইন্টারঅ্যাকশনের কারণে রাজস্ব বিভাগ সহজেই যে কোনো অসংগতি ধরে ফেলছে।
যেকোনো ধরণের আয়ের উৎস গোপন করলে কিংবা আয় কম দেখালে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকাউন্ট অডিটের আওতায় চলে আসছে। অডিটে দোষ প্রমাণিত হলে কেবল বিশাল অঙ্কের জরিমানা নয়, বরং ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও মামলা গড়ায়।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের বড় একটি অংশ উন্নত জীবনের আশায় কানাডা বা যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের (PR) চেষ্টা করেন। কিন্তু কর ফাঁকি বা ভুল তথ্য দেওয়ার ইতিহাস থাকলে সেই স্বপ্ন এক নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।
ডিজিটাল ট্যাক্স সিস্টেমে কোনো জালিয়াতির তথ্য সংরক্ষিত হলে ইমিগ্রেশন বিভাগ সরাসরি সেই ফাইল লাল তালিকাভুক্ত করে। ফলে পিআর আটকে যাওয়ার পাশাপাশি নাগরিকত্ব লাভের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কানাডা ও যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য এখন প্রধান দায়িত্ব হলো সঠিক সময়ে সঠিক আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল করা। দেশে পাঠানো অর্থ বা বিদেশের সম্পদ সংক্রান্ত প্রতিটি লেনদেনের বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
একজন সার্টিফাইড ট্যাক্স কনসালট্যান্ট বা প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট্যান্টের পরামর্শ নিয়ে বাৎসরিক রিটার্ন সাবমিট করলে যেকোনো অপ্রীতিকর আইনি ঝামেলা এড়িয়ে নির্বিঘ্নে বসবাস করা সম্ভব।











