নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শীর্ষ-৩

কফালা প্রথা বাতিল: মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের চাকরি পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিতর্কিত কফালা প্রথা বাতিল এবং ডিজিটাল জব পারমিট বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কর্মজীবনে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের এই দাসত্বতুল্য ব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ায় এখন থেকে বিদেশি কর্মীরা কফিল বা স্পনসরের অহেতুক ছাড়পত্র (NOC) ছাড়াই নিজস্ব সুবিধামতো কোম্পানি পরিবর্তনের আইনি অধিকার পাবেন। সৌদি আরবের ‘কিওয়া’ (Qiwa) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘MoHRE’ অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করা যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে দশকের পর দশক ধরে চলা কফালা ব্যবস্থার কারণে অভিবাসী শ্রমিকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে ভালো কাজের অফার থাকা সত্ত্বেও কফিলের বাধার কারণে শ্রমিকেরা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে পারতেন না। তবে নতুন নিয়মে সরকারি সেন্ট্রাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মী তাঁর কাজের চুক্তিপত্র নিজেই পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করতে পারবেন।

এই ব্যবস্থা চালুর ফলে নিয়োগকর্তার ব্যক্তিগত স্বেচ্ছাচারিতা অনেকটাই থমকে যাবে। প্রবাসীরা এখন নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী ভালো বেতন ও মানসম্পন্ন কর্মপরিবেশ বেছে নেওয়ার অবাধ স্বাধীনতা পাবেন।

নতুন এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় যেমন সুবিধার পথ খুলেছে, তেমনি কিছুটা অসাবধানতায় বড় ধরনের আইনি জটিলতার ঝুঁকিও রয়ে গেছে। সেন্ট্রাল পোর্টালে কাজের চুক্তিপত্র ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে নিবন্ধিত হওয়ায় উভয় পক্ষকেই চুক্তির শর্তাবলি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে।

কোনো প্রবাসী যদি ডিজিটাল চুক্তির তোয়াক্কা না করে বা নির্ধারিত নোটিশ পিরিয়ড না জানিয়ে হঠাৎ কাজ ত্যাগ করেন, তবে পুরোনো নিয়োগকর্তা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন। নিয়োগকর্তার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আকামা বাতিল বা দেশে ফেরত পাঠানোর মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে বিবেচনা করলে প্রবাসীদের জন্য কফালা প্রথা বাতিল এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশি কর্মীরা শ্রম আইনের পূর্ণ সুরক্ষা পাবেন এবং তাদের কর্মসংস্থান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরে আসবে।

তবে এই ব্যবস্থার সুফল পুরোপুরি পেতে হলে প্রবাসীদের প্রযুক্তিগতভাবে সচেতন হতে হবে। স্মার্টফোন অ্যাপ ব্যবহারের দক্ষতা এবং চাকরির চুক্তিপত্রের শর্তাবলি ভালোভাবে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি।

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে রূপান্তর আনার লক্ষ্যে এই প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়িত হচ্ছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শ্রমিকেরা এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় সার্বিক কাজের মান এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ সরকার ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও প্রবাসী কর্মীদের এই ডিজিটাল সিস্টেম সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে তাঁরা কোনো আইনি বিপদে না পড়ে নতুন নিয়মের সর্বোচ্চ সুফল নিতে পারেন।

কফালা প্রথা বাতিল: মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের চাকরি পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত

ইউকে ও সেনজেন ভিসায় নতুন নিয়ম, সতর্কতা

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *