ইউকে ও সেনজেন ভিসায় নতুন নিয়ম, সতর্কতা ও ঝুঁকি

যুক্তরাজ্য (ইউকে) এবং ইউরোপের সেনজেনভুক্ত দেশগুলোর ভিসা আবেদনে ব্যাংক ফান্ডের রিয়েল-টাইম এআই ভ্যালিডেশন প্রযুক্তির সংযোজন প্রবাসীদের জন্য যেমন স্বস্তি এনেছে, তেমনি না জেনে ভুল পদক্ষেপ নিলে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন সরাসরি যাচাই করছে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো। এর ফলে সৎ ও নিয়ম মেনে চলা আবেদনকারীরা যেখানে দ্রুততম সময়ে ভিসা পাচ্ছেন, সেখানে হঠাৎ বড় অঙ্কের টাকা দেখানো ব্যক্তিরা চিরতরে ভিসা পাওয়ার সুযোগ হারাচ্ছেন।
ইউকে ও সেনজেন দেশগুলোর কনস্যুলেট ও ইমিগ্রেশন বিভাগ তাদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থায় ব্যাংক ফান্ডের রিয়েল-টাইম এআই ভ্যালিডেশন যুক্ত করেছে। এর ফলে থার্ড-পার্টি ফিন্যান্সিয়াল ডাটা সার্ভারের মাধ্যমে আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সফটওয়্যার দিয়ে রিয়েল-টাইমে স্ক্যান করা হয়।
আগে জমা দেওয়া কাগজের ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা পিডিএফ ফাইলে ব্যাংক কর্মকর্তা ও কনস্যুলারদের নজর এড়ানো সম্ভব হলেও, এআই প্রযুক্তির কারণে সেই সুযোগ একদম বন্ধ হয়ে গেছে। সফটওয়্যারটি শুধু শেষ জমা হওয়া ব্যালেন্স দেখে না, বরং বিগত কয়েক মাসের টাকার প্রবাহ ও উৎস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্লেষণ করে।
যারা দীর্ঘ সময় ধরে বৈধ উপায়ে অ্যাকাউন্টে লেনদেন বজায় রেখেছেন, তাদের জন্য নতুন এই প্রযুক্তি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। ব্যাংক ফান্ডের রিয়েল-টাইম এআই ভ্যালিডেশন থাকার কারণে ব্যাংক থেকে আলাদা ম্যানুয়াল ভেরিফিকেশন রিপোর্টের জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।
শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের পরিবারদের ক্ষেত্রে ফান্ডের উৎস ও ধারাবাহিকতা পরিষ্কার থাকলে ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সিস্টেমটি বৈধ ফাইলের সততা চিহ্নিত করে খুব দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দিতে দূতাবাস কর্মকর্তা সাহায্য করছে।
আমাদের দেশে অনেক সময় ভিসা আবেদনের কিছুদিন আগে এজেন্সির মাধ্যমে বা পরিচিতদের থেকে সাময়িকভাবে বড় অঙ্কের টাকা বা ল্যাম্প-সাম ডিপোজিট নিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করার প্রবণতা রয়েছে। নতুন এআই প্রযুক্তিতে এটি ধরা পড়া মাত্রই রেড ফ্ল্যাগ বা অ্যালার্ট তৈরি হয়।
হঠাৎ জমার পেছনে যুক্তিসঙ্গত ও বৈধ কোনো তথ্যপ্রমাণ না থাকলে অ্যালগরিদম সঙ্গে সঙ্গে একে জালিয়াতির চেষ্টা হিসেবে ধরে নেয়। এতে শুধু আবেদনটি বাতিলই হয় না, বরং প্রতারণার অভিযোগে আবেদনকারীর ওপর পরবর্তী ১০ বছরের জন্য ট্রাভেল ব্যান বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
উচ্চশিক্ষা বা অভিবাসনের উদ্দেশ্যে ইউকে এবং সেনজেন দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রস্তুত করতে হবে অন্তত ৬ থেকে ৯ মাস আগে থেকে। এককালীন বড় অঙ্কের টাকা জমা করতে হলে তার পক্ষে সুনির্দিষ্ট বিক্রয় রশিদ, সম্পত্তি বিক্রির দলিল বা সুনির্দিষ্ট পারিবারিক সূত্রে পাওয়ার দালিলিক প্রমাণ প্রস্তুত রাখতে হবে।
কোনো অবস্থাতেই কন্ট্রাক্ট গ্রান্ট বা সুদের ওপর সাময়িক টাকা ব্যাংকে জমা রেখে স্টেটমেন্ট তৈরি করা যাবে না। মনে রাখবেন, আধুনিক প্রযুক্তি এখন জালিয়াতি চেনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত নির্ভুল ও কঠোর।











