নভেম্বর ৯, ২০২৬
#মধ্যপ্রাচ্য #শীর্ষ-৩

কন্সট্রাকশন রোবোটিক্স ও অটোমেশনে জিসিসিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের ভাগ্য

মধ্যপ্রাচ্যের নির্মাণ খাতে থ্রিডি কংক্রিট প্রিন্টিং ও কন্সট্রাকশন রোবোটিক্স প্রযুক্তি ব্যবহারে জোয়ার আসায় বাংলাদেশি কর্মীদের আয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আধুনিক হেভি ক্রেন, রোবোটিক কন্সট্রাকশন মেশিন এবং অটোমেটেড যন্ত্রপাতি পরিচালনায় দক্ষ কর্মীরা সাধারণ মেহনতি শ্রমিকের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি বেতনে চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে, ঐতিহ্যবাহী শারীরিক শ্রমের ওপর নির্ভর করে থাকা প্রবাসীদের কাজের পরিধি আশঙ্কাজনকভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ জিসিসিভুক্ত (GCC) দেশগুলোতে এখন গড়ে উঠছে ভবিষ্যৎমুখী নানাবিধ মেগা প্রজেক্ট। প্রথাগত ইট-সুরকির রড বাঁধাই বা সিমেন্ট ঢালাইয়ের পরিবর্তে এসব প্রকল্পে স্থান করে নিচ্ছে স্বয়ংক্রিয় রোবট এবং থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি।

প্রযুক্তিভিত্তিক এই স্থানান্তরের ফলে অবকাঠামো নির্মাণের সময় ও খরচ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। নির্মাণ সাইটে শত শত শ্রমিকের কাজ একা সামলাচ্ছে একটিমাত্র আধুনিক রোবোটিক আর্ম বা কন্সট্রাকশন মেশিন।

যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী নিজেদের সময়ের সাথে হালনাগাদ করেছেন এবং ডিজিটাল যন্ত্রপাতি চালনায় পারদর্শিতা অর্জন করেছেন, তাঁদের জন্য জিসিসির শ্রমবাজার এক সোনালী সুযোগ উন্মোচন করেছে। সাধারণ একজন কন্সট্রাকশন লেবার যেখানে মাসে ১,০০০ থেকে ১,২০০ রিয়াল পান, সেখানে স্মার্ট মেশিন পরিচালনাকারীরা উপার্জন করছেন ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ রিয়ালেরও বেশি।

তবে মুদ্রার অপর পিঠ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এখনো যারা কেবল শারীরিক শক্তি আর মেধা ছাড়া কেবল শ্রম বিক্রির উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন, তাঁরা আধুনিক প্রযুক্তির চাপে কাজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে কাজের ধারা বদলে যাওয়ায় বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি ও সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে (টিটিসি) দ্রুত তাদের সিলেবাস আধুনিকায়ন করতে হবে। সনাতন কাঠের কাজ বা সাধারণ রাজমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি আধুনিক ড্রোন অপারেশন, ডিজিটাল মেজারমেন্ট এবং অটোমেটেড কন্সট্রাকশন মেশিনারি ট্রেনিং দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

দক্ষতা ছাড়া বিদেশে পাড়ি জমানোর পুরনো মনোভাব পরিহার না করলে অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল রেমিট্যান্স বাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়তে পারে। তাই নতুন প্রবাসীদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতায় শিক্ষিত করে তোলাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

অটোমেশনের এই ঢেউ কেবল বড় বড় প্রজেক্টেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ছোটখাটো অবকাঠামো গঠনেও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগছে। আধুনিক নির্মাণ শিল্পে টিকে থাকতে হলে প্রবাসীদের কম্পিউটার ও রোবোটিক সিস্টেমের মৌলিক জ্ঞান অর্জন আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যেসব কর্মীরা কাজের ফাঁকে বা বিদেশ যাওয়ার আগে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন, তাঁদের কাজের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে মর্যাদাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কন্সট্রাকশন রোবোটিক্স ও অটোমেশনে জিসিসিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের ভাগ্য

ই-৯ থেকে ই-৭ ভিসা: প্রবাসীদের জন্য সুবর্ণ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *