নভেম্বর ৯, ২০২৬
#মধ্যপ্রাচ্য #শ্রমবাজার

মদিনা থেকে জেদ্দা ফেরার পথে সৌদিতে প্রাণ গেল ৭ বাংলাদেশির

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোরে মদিনা থেকে জেদ্দা ফেরার পথে মহাসড়কে এ দুর্ঘটনায় আরও ১৫ বাংলাদেশি আহত হন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তাঁদের সবার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এবং তাঁরা একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হতাহতদের পরিচয়, দুর্ঘটনার বিস্তারিত এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে কনস্যুলেট যোগাযোগ করছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মদিনা থেকে জেদ্দার দিকে যাওয়ার সময় বাংলাদেশিদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই সাত বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

তবে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে কিছু অমিল রয়েছে। ঢাকা ট্রিবিউন ও জাগো নিউজের প্রতিবেদনে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে বাসটিকে পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কা দেওয়ার তথ্য এসেছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

দুর্ঘটনার পর সৌদি আরবের স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে। নিহতদের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহত সাত বাংলাদেশি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তাঁরা সৌদি আরবের আল আবীর কোল্ড স্টোর ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য রয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং ম্যানেজার নুরুজ্জামানের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কোম্পানির স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান, তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। একই দুর্ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ফর্কলিফট চালক ইলিয়াসের স্ত্রী এবং মক্কায় কর্মরত স্টোরকিপার আলমশাহ ও তাঁর এক মাস বয়সী কন্যাশিশুও প্রাণ হারিয়েছেন।

নারী ও শিশুসহ একই এলাকার একাধিক পরিবারের সদস্যদের এমন মৃত্যুতে চকরিয়ার প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের জীবনে কর্মস্থলের পাশাপাশি পারিবারিক ভ্রমণও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের দুর্ঘটনা তাঁদের যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিহতদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

আহত ১৫ বাংলাদেশির চিকিৎসার অগ্রগতি, তাঁদের মধ্যে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক কি না এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরানোর সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

মদিনা থেকে জেদ্দা ফেরার পথে সৌদিতে প্রাণ গেল ৭ বাংলাদেশির

এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রবাসী মেধা কাজে

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *