মধ্যপ্রাচ্যে অবৈধ হয়ে পড়া প্রবাসীদের দেশে ফেরা ও বৈধতার বড় সুযোগ

বিভিন্ন কারণে আকামাহীন বা অবৈধ হয়ে পড়া প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ওভারস্টেইড এক্সপ্যাটদের আমনেস্টি একটি বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে শুরু হওয়া এই বিশেষ সাধারণ ক্ষমার আওতায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাসকারী প্রবাসীরা কোনো প্রকার বড় আর্থিক জরিমানা ছাড়াই নিজ নিজ দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে উপযুক্ত নিয়োগকর্তা খুঁজে নতুন করে বৈধ হওয়ার পথও উন্মুক্ত রয়েছে এই বিশেষ কর্মসূચিতে।
মধ্যপ্রাচ্যের কর্মসংস্থান ও অভিবাসন ব্যবস্থার জটিলতায় অনেকেই সময়ে আকামা নবায়ন করতে পারেন না। কেউ আবার কফিল বা নিয়োগকর্তার সাথে চুক্তি ভেঙে অবৈধভাবে থেকে যান। এই পরিস্থিতিতে ওভারস্টেইড এক্সপ্যাটদের আমনেস্টি তাদের জন্য নতুন জীবনের একটা সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।
সাধারণত ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে প্রতিদিনের ভিত্তিতে ভারী জরিমানা জমা হতে থাকে। কিন্তু এই আমনেস্টি বা রিটার্ন পাস ব্যবস্থার ফলে কোনো অর্থ না গুনেই প্রবাসী শ্রমিকেরা দেশে ফেরার ছাড়পত্র পাচ্ছেন। যারা নতুন চাকরির মাধ্যমে দেশটিতে স্থায়ী হতে চান, তারাও বৈধ কাগজপত্র গুছিয়ে নিতে পারছেন।
যদিও সরকারগুলোর পক্ষ থেকে প্রবাসীদের জন্য অনেক সহজ শর্ত দেওয়া হয়েছে, তবে কিছু কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতিটি আবেদনকারীকে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক ডেটা ও ফোর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পন্ন করতে হবে।
যদি কেউ অলসতা করে বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই প্রসেস শেষ না করেন, তবে তার জন্য পরিণতি হবে অত্যন্ত মারাত্মক। অসম্পূর্ণ আবেদনের কারণে বিমানবন্দর থেকেই গ্রেপ্তার বা দীর্ঘমেয়াদি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হতে পারে। এছাড়া ভবিষ্যতে আর কখনোই সংশ্লিষ্ট দেশে ঢুকতে না দেওয়ার মতো ব্ল্যাকলিস্টে পড়ার বড় ঝুঁকি থেকে যায়।
আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি। প্রথমত, নিজের পাসপোর্টের মেয়াদ পরীক্ষা করতে হবে এবং মেয়াদ না থাকলে জরুরি ভিত্তিতে ট্রাভেল পারমিট বা আউটপাস সংগ্রহ করতে হবে।
এরপর সংশ্লিষ্ট মধ্যপ্রাচ্যের দেশের ইমিগ্রেশন পোর্টাল বা নির্ধারিত সেবা কেন্দ্রে গিয়ে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন করা প্রয়োজন। নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও স্পন্সরশিপ হস্তান্তরের শর্তগুলো আগেই বুঝে নেওয়া ভালো।
মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশীসহ অন্যান্য দেশের অভিবাসী কর্মীদের জন্য এটি একটি বিরল সুযোগ। আইনি অনিশ্চয়তা আর গ্রেপ্তার আতঙ্কে দিন কাটানোর চেয়ে সরকারি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বৈধ হওয়া অথবা সম্মানের সাথে দেশে ফেরাই বুদ্ধিমানের কাজ।
দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কগুলোর পক্ষ থেকেও কর্মীদের দ্রুততম সময়ে রেজিস্ট্রেশন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সময় পার হয়ে গেলে এই ধরনের আইনি ছাড় আর নাও মিলতে পারে।











