মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: আটকে পড়াদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন কয়েক লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী। যুদ্ধাবস্থার কারণে অনেক কর্মী কর্মস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন, আবার অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে। এই সংকট নিরসনে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, আটকে পড়া প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও স্থলভাগে চলমান সামরিক অস্থিরতা কেবল স্থানীয়দের নয়, বরং সেখানে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকদের জীবনকেও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে যারা যুদ্ধের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এক শহর থেকে অন্য শহরে স্থানান্তরিত হয়েছেন, তাদের জন্য সবচেয়ে বড় ভীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনি বৈধতা বা ‘আকামা’।
ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তারা কেবল অবৈধ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতেই নেই, বরং যুদ্ধ শেষে পুনরায় কাজে ফেরার পথও রুদ্ধ হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সরকারের অগ্রাধিকার। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ গণমাধ্যমকে বলেন, “যুদ্ধ কোনো সাধারণ পরিস্থিতি নয়।
আমরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকারপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, পরিস্থিতির কারণে কেউ যেন আইনি জটিলতায় না পড়েন এবং মানবিক বিবেচনায় যেন তাদের ভিসার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো হয়।”
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি রেমিট্যান্সের বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। তাই এই অঞ্চলের অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য কেবল মানবিক নয়, বরং একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও বটে। স
রকারি সূত্রমতে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতের মতো দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে। যেসব শ্রমিক বর্তমানে বাংলাদেশে ছুটিতে এসে আটকা পড়েছেন এবং যুদ্ধের কারণে ফিরতে পারছেন না, তাদের ভিসার বিষয়টিও এই বিশেষ কূটনৈতিক আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অগ্নিগর্ভ ইরান: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ১৩১ শহর লন্ডভন্ড
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্পনসর বা কফিলদের পক্ষেও অনেক সময় কর্মীদের আইনি দায়ভার নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন অবস্থায় ‘জি-টু-জি’ (সরকার টু সরকার) আলোচনা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।











