নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ #মধ্যপ্রাচ্য #শীর্ষ-৩

মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে দেশীয় ফুড অ্যান্ড ক্যাটারিং ব্যবসার বিপুল সম্ভাবনা

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের চাহিদা এবং বিদেশীদের মাঝে এশীয় খাবারের নতুন ক্রেজ কাজে লাগিয়ে দেশীয় ফুড অ্যান্ড ক্যাটারিং খাতের উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান মজবুত করছেন। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশাল বাজারগুলোতে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, বিরিয়ানি হাউস কিংবা প্রথাগত মিষ্টির আউটলেট স্থাপনের দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আইন, ফুড লাইসেন্স ও বাণিজ্যিক শর্তাবলী মেনে সঠিকভাবে এগোতে পারলে এটি কেবল লাভজনক ব্যবসায় রূপ নেবে না, বরং বৈশ্বিক পর্যায়ে রূপ নেবে এক বিশাল ব্র্যান্ডে।

মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, কাতার, কিংবা ইউরোপের যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল ও ইতালি থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক—প্রতিটি বড় শহরেই বাংলাদেশী খাবারের বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। একসময় যা কেবল বাংলাদেশি প্রবাসীদের খাবার যোগানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন স্থানীয় বিদেশিদের রুচির মানচিত্রে জায়গা করে নিচ্ছে।

বিশেষ করে কাচ্চি বিরিয়ানি, ভুনা খিচুড়ি, রসগোল্লা, ছানার মিষ্টি ও ছানামুখীর মতো স্বকীয় খাবারগুলোর চাহিদা হু হু করে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অভিজ্ঞ ও নতুন উদ্যোক্তারা এখন ব্র্যান্ডেড আউটলেট ও ক্যাটারিং সার্ভিস চালুর দিকে ঝুঁকছেন।

বিদেশের মাটিতে বাণিজ্যিক রেস্টুরেন্ট বা সুইটমিট শপ চালু করার প্রথম শর্তই হলো স্থানীয় সরকার ও খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের নীতিমালা নিখুঁতভাবে মেনে চলা। যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে বাণিজ্যিক কিচেনের জন্য নির্ধারিত এয়ার ভেন্টিলেশন, গ্রিজ ট্র্যাপ এবং স্যানিটেশন লাইসেন্স পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং।

এছাড়া ক্যাটারিং ব্যবসা পরিচালনার জন্য ফুড হ্যান্ডলিং সার্টিফিকেট এবং হালাল অথরিটির অনুমোদন থাকা আবশ্যক। সঠিক বিজনেস প্ল্যান তৈরি করে বাণিজ্যিক স্থান লিজ নেওয়া থেকে শুরু করে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ পর্যন্ত সব ধাপে পেশাদার সলিসিটর বা লোকাল কনসালট্যান্টের সাহায্য নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল।

বৈশ্বিক বাজারে যেকোনো দেশীয় ফুড অ্যান্ড ক্যাটারিং উদ্যোগ সফল হওয়ার মূলে রয়েছে খাবারের গুণগত মান ও স্বাদের ধারাবাহিকতা। ভালো শেফ নিয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি রেসিপির জন্য নিজস্ব স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) তৈরি করা জরুরি, যাতে প্রতিবার ক্রেতা একই স্বাদ পান।

আধুনিক যুগের সাথে তাল মেলাতে সুন্দর রেস্টুরেন্ট ইন্টেরিয়রের পাশাপাশি অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম (যেমন উবার ইটস, জাস্ট ইট বা ডোরাড্যাশ) এর সাথে পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে হবে। স্থানীয় কমিউনিটি ইভেন্টগুলোতে স্পন্সরশিপ প্রদান ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়িয়ে দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে সফল হওয়া সম্ভব।

আমিরাতে ৪,৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল;দেশে আটকে পড়েছেন

মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে দেশীয় ফুড অ্যান্ড ক্যাটারিং ব্যবসার বিপুল সম্ভাবনা

বিদেশে ব্যবসা: এশীয় ফ্রাঞ্চাইজি ও কম খরচে

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *