নিথর দেহে স্বদেশে ফিরল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের বলি বাংলাদেশি তারেক

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ ও চলমান যুদ্ধের আগুনে পুড়ে অকালেই নিভে গেল আরও এক বাংলাদেশির প্রাণ। বাহরাইনে নিহত প্রবাসী এস এম তারেকের মরদেহ শুক্রবার বিকেলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে। স্বজনদের আহাজারি আর রাষ্ট্রীয় শোকের আবহে কফিনবন্দী হয়ে দেশের মাটিতে পা রাখলেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
শুক্রবার নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে গালফ এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারেকের মরদেহ ঢাকায় আনা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যখন কার্গো ভিলেজের ফটক দিয়ে কফিনটি বেরিয়ে আসে, তখন সেখানে উপস্থিত স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে দেশ ছেড়েছিলেন তারেক, কিন্তু কে জানত—ফেরাটা হবে এমন স্তব্ধ ও নিথরভাবে।
আরও পড়ুনঃ সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা, জেনে নিন প্রয়োজনে যোগাযোগের নম্বর!
বিমানবন্দরে মরদেহটি রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করতে উপস্থিত ছিলেন সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই হৃদয়বিদারক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা কেবল ওই অঞ্চলের মানুষের জন্যই নয়, সেখানে কর্মরত কয়েক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্যও এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মরদেহ গ্রহণের পর প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, চলমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রক্সি যুদ্ধে সাধারণ মানুষের কোনো হাত না থাকলেও, তারেকের মতো পরিশ্রমী প্রবাসীরা এর নির্মম বলি হচ্ছেন। যুদ্ধের ডামাডোলে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে কিংবা আবাসন এলাকায় গোলার আঘাতে এই মৃত্যুগুলো প্রবাসীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।
বিদেশের মাটিতে যুদ্ধের শিকার হওয়া কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনার দাবি উঠছে। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখেন, অথচ যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে তাদের সরিয়ে আনা বা নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাগুলো প্রকট হয়ে উঠছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত অন্য বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যারা ফিরতে চান, তাদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। তবে তারেকের মতো যারা অকালে চলে গেলেন, তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে মোড় নেবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। মৃত ব্যক্তিদের জন্য বীমা ও বিশেষ অনুদান দ্রুত ছাড় করার আশ্বাস দিয়েছে মন্ত্রণালয়।











