উচ্চশিক্ষায় নিউজিল্যান্ড: পার্ট-টাইম কাজের সময় বাড়লো, সহজ হচ্ছে ওয়ার্ক ভিসা

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ নিয়ে এলো নিউজিল্যান্ড সরকার। নতুন নীতিমালায় নিউজিল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা সুবিধা বাড়িয়ে অফ-ক্যাম্পাস পার্ট-টাইম কাজের সময়সীমা সপ্তাহে ২৫ ঘণ্টা করা হয়েছে। একই সাথে লেভেল-৭ বা গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্নকারীদের জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক পারমিটের পথ আরও সহজ করা হয়েছে। শিক্ষা শেষে স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি এক বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডের শিক্ষা খাত বিশ্বজুড়ে এর গুণগত মানের জন্য পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক প্রার্থীরা কাজের ঘণ্টার সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন, কারণ পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনযাত্রার খরচ চালানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
নতুন নিয়মে কাজের সময় সাপ্তাহিক ২০ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ২৫ ঘণ্টা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা খরচের পাশাপাশি দৈনন্দিন খরচ অনায়াসে সামলে নিতে পারবেন। তবে কাজের সুযোগ বাড়লেও ক্লাসে উপস্থিতি এবং পড়াশোনার মানের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
লেভেল-৭ বা তদূর্ধ্ব ডিগ্রির অধীনে ব্যাচেলর কিংবা ডিপ্লোমা সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়োগকর্তাদের কাছে গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। নিউজিল্যান্ডের বর্তমান পলিসিতে কোর্স শেষে সরাসরি পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার শর্তগুলো শিথিল করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা এখন পড়াশোনা শেষেই স্থানীয় জব মার্কেটে প্রবেশ করতে পারবেন। সঠিক কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারলে ভবিষ্যতে স্থায়ী বাসস্থান (PR) বা রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার পথও সুগম হয়ে ওঠে, যা বাংলাদেশকেসহ বিশ্বের নানা প্রান্তের তরুণদের আকৃষ্ট করছে।
একদিকে নীতিমালায় নিউজিল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা সুবিধা বাড়ানো হলেও অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির বাস্তবতাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নিউজিল্যান্ডের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে আবাসন ও দৈনিক খরচের হার আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাই শুধু কাজের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই একটি শক্ত আর্থিক ব্যাকআপ বা প্রাথমিক বাজেট নিয়ে যাওয়া উচিত। সঠিক সময়ের ম্যানেজমেন্ট এবং বাজেট তৈরি করতে পারলে নতুন এই সুবিধা শিক্ষার্থীদের জন্য বিরাট সাফল্যের বার্তা বয়ে আনবে।











