নভেম্বর ৯, ২০২৬
#সৌদি আরব

সৌদি আরবে গ্রেপ্তার ১৪ হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশী

সৌদি আরবে গ্রেপ্তার হওয়া ১৪ হাজার ১৬৫ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে দেশটির প্রশাসন। গত ২৭ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত যৌথ সাঁড়াশি অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধভাবে বসবাসকারী ও আইনি শর্ত ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। প্রবাসীদের মধ্যে যারা নিয়ম মেনে চলছেন না, তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

এক সপ্তাহের এই কঠোর নজরদারিতে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট তিনটি প্রধান বিধিনিষেধ ভাঙার কারণেই প্রবাসীদের বড় অংশটি ধরা পড়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে আইন লঙ্ঘনের একটি পরিষ্কার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৭,১২১ জন সরাসরি আবাসন আইন (আকামা সংক্রান্ত) ভঙ্গ করেছেন। এর পাশাপাশি ৩,৬৩৬ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং ৩,৪০৮ জন স্থানীয় শ্রম আইন অমান্য করায় ধরা পড়েছেন।

সীমান্ত পথ ব্যবহার করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে দেশে প্রবেশের সময় ১,৩১৫ জনকে হাতেনাতে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। আন্তর্জাতিক সীমান্ত প্রহরা জোরদার করার ফলেই এদের প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

আটক হওয়া অনুপ্রবেশকারীদের জাতিগত পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ ইথিওপীয় এবং ৪১ শতাংশ ইয়েমেনি নাগরিক। বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের বাসিন্দা। একই সময়ে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টাকালে আরও ৪২ জনকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রবাসী শ্রমিকদের অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার অপরাধকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে সৌদি সরকার। অবৈধভাবে বসবাসকারীদের পরিবহন সেবা দেওয়া, বাসস্থান ভাড়া দেওয়া কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ করে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এই ধরণের অপরাধের অভিযোগে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ২১ জনকে আটক করেছে। সৌদি আরবে গ্রেপ্তার এড়াতে প্রবাসীদের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।

মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, অবৈধ প্রবেশ ও অবস্থানে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। সেই সঙ্গে জরিমানা হতে পারে ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত। অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন বা যে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইনি বিধানও রাখা হয়েছে।

বর্তমানে ২৯,৭৭৩ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এদের মধ্যে ১৮,৯৩৭ জন তাদের নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশন থেকে আউটপাস বা ভ্রমণ নথির অপেক্ষায় আছেন। অন্যদিকে আরও ৩,২৪০ জনকে চূড়ান্ত ছাড়পত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সৌদি আরবে গ্রেপ্তার ১৪ হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশী

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ফান্ডিং নিশ্চিত করতে প্রফেসর

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *