নভেম্বর ৯, ২০২৬
#মধ্যপ্রাচ্য #সৌদি আরব

রিয়াদে ড্রোন আঘাত হানার পর প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী সৌদি আরবে হুথি হামলা রিয়াদের দীর্ঘদিনের সুরক্ষিত ও নিরাপদ ভাবমূর্তিকে এক নিমেষে বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও এতদিন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল বলে মনে করা হতো। কিন্তু সম্প্রতি রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো এই আকস্মিক ও শক্তিশালী হামলায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা ধারণা এক ধাক্কায় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। ঘটনায় প্রবাসীদের পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বহু বছর ধরে সৌদি আরব অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আধুনিকায়নের সাথে সাথে নিজেদের একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে রিয়াদ শহরটি প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং লক্ষ লক্ষ বিদেশি শ্রমিকের প্রধান প্রাণকেন্দ্র।

কিন্তু সাম্প্রতিক এই হামলা সাধারণ মানুষের মনে স্থায়ী ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে। যেখানে একটি দেশের প্রধান বিমানবন্দর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, সেখানে নগরীর সার্বিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা মজবুত—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরেফিরে সামনে আসছে।

সৌদি আরবে কর্মসংস্থান ও বসবাসের উদ্দেশ্যে বিশ্বের বহু দেশ থেকে কোটি মানুষ অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছেন বাংলাদেশীসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসীরা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমন সরাসরি আঘাতের খবর পৌঁছানোর পর থেকেই তাদের স্বজনদের মধ্যে কান্না ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিফোনে নিজেদের স্বজনদের খবরাখবর নিচ্ছেন। কাজের সূত্রে সেখানে থাকা নাগরিকেরা বলছেন, সাধারণ দিনেও যেখানে বিমানবন্দরে ভিড় ও কর্মব্যস্ততা থাকে, সেখানে এমন হামলার পর এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাহীনতার ছায়া নেমে এসেছে।

ইয়েমেন সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে চললেও সরাসরি রিয়াদের একদম হৃদপিণ্ডে কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালাইর ঘটনা খুব একটা দেখা যায়নি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ বিমানবন্দরকে নিশানা বানিয়ে হুথি বিদ্রোহীরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে তাদের দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আওতা বহু দূর বিস্তৃত।

এই হামলার পর নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন যে, আঞ্চলিক উত্তেজনা যেভাবে বাড়ছে তাতে সৌদি আরবে হুথি হামলা ঠেকানো এবং অভ্যন্তরীণ বড় পরিকাঠামো রক্ষা করা সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আগামী দিনে বিমান চলাচলের গতিপথ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রটোকল আরও কঠোর করা হতে পারে।

সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের পথে রিয়াদকে একটি আন্তর্জাতিক হাব বানানোর পরিকল্পনা চলছিল। দূর-দূরান্ত থেকে বিশ্বমানের কোম্পানি ও দক্ষ প্রবাসীদের আকর্ষণ করার সেই প্রচেষ্টায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা একটি বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।

প্রবাসী শ্রমিকরা যদি তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে থাকেন, তবে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশটির শ্রমবাজার এবং সার্বিক অর্থনীতির ওপর। বর্তমানে রিয়াদ কর্তৃপক্ষ তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থা শতভাগ নিশ্চিত করার তাগিদ অনুভব করছে।

রিয়াদে ড্রোন আঘাত হানার পর প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

প্রবাসীদের আইনি জটিলতা দূর করতে আসছে বিশেষ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *