নভেম্বর ৯, ২০২৬
#সৌদি আরব

সৌদি আরবে ফ্লাইট বাতিল: বিমানবন্দরে প্রবাসীদের চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তা

সৌদি আরবে ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে ছুটির মেয়াদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার জেরে আকস্মিকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ও ব্যাহত হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে অনেক যাত্রী জানতে পারেন তাঁদের নির্ধারিত ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে, তাঁরা চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালে এখন কেবলই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার ছাপ। বহু প্রবাসী প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঋণ করে বা জমানো টাকা খরচ করে বিমানবন্দরে এসে জানতে পারেন তাঁদের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। অনেক যাত্রী জানান, এয়ারলাইনস কিংবা ট্রাভেল এজেন্সির পক্ষ থেকে আগে থেকে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রবাসীরা লাগেজ হাতে নিয়ে বিমানবন্দরের মেঝেতেই রাত কাটাচ্ছেন। তাঁদের মূল চিন্তা এখন কর্মস্থল আর কাজের চুক্তি নিয়ে, কারণ সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে চাকরি হারানোর সরাসরি ঝুঁকিতে পড়বেন অনেকেই।

যেসব প্রবাসী প্রাক-ছুটি কাটিয়ে দ্রুত কাজে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাঁদের জন্য সৌদি আরবে ফ্লাইট বাতিল যেন আকাশ ভেঙে পড়ার মতো ঘটনা। সৌদির শ্রম আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আকামা বা পুনর্প্রবেশ (রি-এন্ট্রি) ভিসা নবায়ন না হলে বা কর্মী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়।

অনেকের ভিসার মেয়াদ হাতে আর মাত্র দুই-একদিন বাকি। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে যদি ফ্লাইট চালু না হয় এবং এয়ারলাইন্সগুলো বিকল্প ব্যবস্থা না করে, তবে জীবনের সব উপার্জন ভেস্তে যাওয়ার ভয়ে আকুল প্রবাসীরা।

সংকট কেবল ঢাকার দিকেই সীমাবদ্ধ নয়। ওদিকে রিয়াদ ও জেদ্দা বিমানবন্দরেও দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা শত শত বাংলাদেশি আটকে আছেন। কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ির কারণে স্বাভাবিক চলাচল ও টার্মিনাল পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ দাবি করছেন উভয় প্রান্তের যাত্রীরা। জরুরি ভিত্তিতে ট্রানজিট ভিসা বা বিকল্প রুটে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার তাগিদ দিচ্ছেন ভ্রমণ খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *