আরব আমিরাতে বাংলাদেশিরা: শ্রমিক জীবন থেকে ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্প

গগনচুম্বী অট্টালিকা, বিলাসবহুল জীবনযাপন আর পর্যটনের স্বর্গরাজ্য—সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। দুবাই বা আবুধাবির এই চাকচিক্যের পেছনে রয়েছে হাজারো বাংলাদেশি শ্রমিকের ঘাম। একই সাথে এখানে রয়েছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অভূতপূর্ব সাফল্যের গল্প। আমিরাতে বাংলাদেশিদের অবস্থান অনেকটা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠের মতো—একদিকে শ্রমিকদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি, অন্যদিকে ধনকুবের বাংলাদেশিদের জৌলুস।
শ্রমিকদের বাস্তবতা ও ভিসা জটিলতা আমিরাতে নির্মাণ খাত, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, এবং ড্রাইভিং পেশায় প্রচুর বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। বুর্জ খলিফা থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং মল—সবখানেই বাংলাদেশি কর্মীদের হাতের ছোঁয়া আছে। তবে ২০১২ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে আমিরাত সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা বন্ধ বা সীমিত করে রেখেছিল। সম্প্রতি ভিজিট ভিসায় এসে কাজ খোঁজার প্রবণতা বেড়েছে, যা অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভিজিট ভিসায় এসে কাজ না পেয়ে বা দালালদের প্রতারণায় পড়ে অনেকেই পার্কে বা রাস্তায় রাত কাটাতে বাধ্য হন। তবে সম্প্রতি ঘোষিত ‘ভিসা অ্যামনেস্টি’ বা সাধারণ ক্ষমার সুযোগ কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার অবৈধ বাংলাদেশি তাদের কাগজপত্র বৈধ করার সুযোগ পেয়েছেন, যা এক বড় স্বস্তি।
ব্যবসায়িক খাতে বাংলাদেশিদের দাপট শ্রমিকের পরিচয়ের বাইরে আমিরাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে। দুবাই, শারজাহ এবং আজমানে সুপারশপ, রেস্তোরাঁ, রিয়েল এস্টেট, পারফিউম এবং ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায় বাংলাদেশিরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বহু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আমিরাত সরকারের ‘গোল্ডেন ভিসা’ বা দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন। তাদের এই সাফল্য দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। এনআরবি (Non-Resident Bangladeshi) হিসেবে তারা দেশেও বড় অংকের বিনিয়োগ করছেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভবিষ্যৎ দুবাই বা আবুধাবিতে জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী। তাই সাধারণ শ্রমিকদের পক্ষে এখানে সঞ্চয় করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকে ‘শেয়ারিং বেড’ বা গাদাগাদি করে মেস-বাড়িতে থেকে খরচ কমানোর চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, আমিরাত সরকার এখন প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে অদক্ষ শ্রমিকের চেয়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান, শেফ, এবং আইটি প্রফেশনালদের চাহিদা বাড়বে।
আমিরাতে অবস্থিত বাংলাদেশিরা মনে করেন, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হলে শ্রমবাজার পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে। বিশেষ করে ‘ভিজিট টু এমপ্লয়মেন্ট’ ভিসার ঝুঁকি কমিয়ে সরকারিভাবে কর্মী পাঠানো গেলে প্রতারণা কমবে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও গতিশীল হবে।











