সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্লাস্টিক সার্জারি নয় :জয়া আহসান

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান তাঁর অভিনয় দক্ষতা দিয়ে যেমন মুগ্ধ করেন, তেমনি তাঁর চিরসবুজ রূপ নিয়েও ভক্তদের বিস্ময়ের শেষ নেই। বয়স বাড়লেও জয়া যেন দিন দিন আরও তরুণী হয়ে উঠছেন। কিন্তু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জয়া স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর এই সৌন্দর্যের পেছনে কোনো কৃত্রিমতার ছোঁয়া নেই। বরং প্লাস্টিক সার্জারি বা বোটক্সের মতো ট্রেন্ডের ঘোর বিরোধী তিনি। পাশাপাশি তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনে পাপারাজ্জিদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই গুণী অভিনেত্রী।
স্বাভাবিক সৌন্দর্যের জয়গান কলকাতার একটি জনপ্রিয় টক শোতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়া। সেখানে সঞ্চালক যখন বর্তমান অভিনেত্রীদের প্লাস্টিক সার্জারির প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন করেন, জয়া সাবলীল ভাষায় উত্তর দেন। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি বয়সের নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। বলিরেখা বা বয়সের ছাপ লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই। আমি নিয়মিত যোগব্যায়াম করি, প্রচুর পানি পান করি এবং ইতিবাচক চিন্তা করি—এটাই আমার সৌন্দর্যের রহস্য। আমি চাই না কোনো কৃত্রিম উপায়ে আমার মুখের অভিব্যক্তি নষ্ট হয়ে যাক, কারণ অভিনয়ে মুখের সূক্ষ্ম অভিব্যক্তিই আসল।”
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে তরুণ অভিনেত্রীরা যেভাবে সামান্য ত্রুটি ঢাকতে সার্জারির আশ্রয় নিচ্ছেন, তা ভবিষ্যতে তাঁদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। “নিজেকে ভালোবাসা মানে নিজেকে বদলে ফেলা নয়,”—জয়ার এই উক্তিটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
পাপারাজ্জি সংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা শুধু সৌন্দর্যচর্চা নয়, জয়া কথা বলেছেন পাপারাজ্জি সংস্কৃতি নিয়েও। মুম্বাইয়ের আদলে ঢাকা ও কলকাতায় এখন পাপারাজ্জিদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তারকারা কোথায় যাচ্ছেন, কী খাচ্ছেন—সব কিছু লেন্সবন্দি করার এই প্রতিযোগিতায় বিরক্ত জয়া। তিনি বলেন, “আমরা পাবলিক ফিগার, কিন্তু আমাদেরও একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে। আমি যখন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই বা কোনো ঘরোয়া অবস্থায় থাকি, তখন ক্যামেরা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়াটা শোভন নয়। সুস্থ সাংবাদিকতা আর ব্যক্তিগত জীবনে উঁকি দেওয়া এক জিনিস নয়।”
নতুন কাজের খবর আলোচনার শেষে জয়া তাঁর আসন্ন সিনেমার খবর জানান। শীঘ্রই সৃজিত মুখার্জির পরিচালনায় একটি ঐতিহাসিক সিনেমায় দেখা যাবে তাঁকে। এছাড়া বাংলাদেশেও একটি সরকারি অনুদানের সিনেমায় কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। জয়া প্রমাণ করে দিয়েছেন, গ্ল্যামার নয়, অভিনয় আর ব্যক্তিত্ব দিয়েই একজন শিল্পী দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারেন। তাঁর এই সোজাসাপ্টা বক্তব্য ভক্তদের কাছে তাঁকে আরও শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছে।











