নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রবাসীর পরিবার

বিদেশে স্পাউসের কাজ ও গ্র্যাজুয়েট রুট রিনিউয়াল: নতুন নিয়মে কতটুকু লাভ?

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গ্র্যাজুয়েট রুট রিনিউয়াল সুবিধার আওতায় জীবনসঙ্গীদের জন্য ফুল-টাইম কাজের সুযোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। কাজের আইনি স্বীকৃতি প্রবাসীদের আর্থিক স্থায়িত্ব দিতে সহায়ক হলেও এর আড়ালে রয়েছে কড়া রাজস্ব ও ভিসা শর্ত। নির্দিষ্ট বার্ষিক আয়ের ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল জমা দিতে ব্যর্থ হলে ভিসা এক্সটেনশন বাতিলের ঝুঁকিতে পড়ছেন অনেকে।

উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় থাকে নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা। সাম্প্রতিক নীতিমালায় পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা বা গ্র্যাজুয়েট রুটের আওতায় থাকা প্রবাসীদের স্পাউসদের ফুল-টাইম কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি শিক্ষার্থী পরিবারের আর্থিক বোঝা কমাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে।

তবে এই আইনি সুবিধার সাথেই যুক্ত করা হয়েছে স্পাউস ইনকাম ক্রাইটেরিয়া। অর্থাৎ, ভিসা নবায়ন কিংবা পরিবারের খরচ বহনের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ বার্ষিক আয় দেখাতে হবে। কাজের স্বাধীনতার সাথে এই আয়ের হিসাব রক্ষা করা এখন প্রতিটি আন্তর্জাতিক পরিবারের জন্য বাধ্যতামূলক একটি শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নতুন নিয়মের অধীনে স্পাউসের ভিসা সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি হলো স্বচ্ছ আর্থিক হিসেব। অনেকেই চাকরি বা ব্যবসা করে আয় করলেও সঠিক সময়ে রাজস্ব কর্তৃপক্ষের কাছে ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল জমা দিতে অবহেলা করেন। কিন্তু ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণের প্রধান দলিলই হলো এই ট্যাক্স ডকুমেন্ট।

যদি নির্ধারিত ন্যূনতম আয়ের সাপেক্ষে সঠিক ট্যাক্স রেকর্ড জমা দেওয়া না যায়, তবে ভিসা এক্সটেনশনের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান হতে পারে। এর ফলে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ হারানোর পাশাপাশি দেশে ফেরত আসার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

বিদেশে পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে স্থায়ী হতে চাইলে প্রথম দিন থেকেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। যেকোনো কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকে পেমেন্ট স্লিপ, ব্যাংকিং স্টেটমেন্ট এবং বাৎসরিক ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল গুছিয়ে রাখতে হবে। কোনো ধরনের ক্যাশ ইন হ্যান্ড বা অনিয়মিত লেনদেন ভিসা নবায়নের সময় বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

তাছাড়া, অনুমোদিত ইমিগ্রেশন অ্যাডভাইজার বা অ্যাকাউন্ট্যান্টের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত ফাইলিং নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ। নিয়ম মেনে চললে শুধু ভিসার মেয়াদই বাড়বে না, বরং পরবর্তীতে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ক্ষেত্রেও এটি একটি মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *