নভেম্বর ৯, ২০২৬
#জাতীয় #প্রবাসী বীমা

প্রবাসীদের আর্থিক লেনদেন সহজ করতে আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, জনতা ব্যাংকের সাথে সমঝোতা স্মারক সই

বিদেশে অবস্থানরত ও অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশি নাগরিকদের আর্থিক লেনদেন সহজ করতে প্রবাসী কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রথাগত ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা এবং তাদের কষ্টার্জিত অর্থের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানের উদ্দেশ্যে এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০ আগস্ট প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসির মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রথাগত উপায়ে ব্যাংকে অর্থ পাঠানো কিংবা দেশে থাকা পরিবারের কাছে দ্রুত টাকা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তারা প্রায়শই নানা জটিলতার সম্মুখীন হন। অনেকে বাধ্য হয়ে অবৈধ পথে অর্থ পাঠান, যা ব্যক্তি ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।

এই ব্যাংক ব্যবস্থা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সরকারি ও ব্যাংক খাতের যৌথ সহযোগিতায় নতুন এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, জনতা ব্যাংক পিএলসি প্রবাসীদের আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংকিং সেবা এবং বিশেষ ডিজিটাল কার্ড প্রদান করবে। বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় থেকেই প্রবাসীরা এই ব্যবস্থার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

প্রস্তাবিত এই প্রবাসী কার্ড এর সুবিধা কেবল রেমিট্যান্স পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা বিদেশ বসেই সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনা সরাসরি গ্রহণ করতে পারবেন। দেশে থাকা স্বজনেরাও ঝামেলা ছাড়াই এ কার্ডের অর্থ কেনাকাটা বা নগদ উত্তোলনে ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে যুক্ত হওয়ার ফলে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সহজ শর্তের ঋণ এবং বিশেষ সঞ্চয় স্কিমের সুবিধা পাবেন। প্রবাসী কল্যাণ তহবিলের সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিও এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে। অভিবাসনপ্রত্যাশী তরুণরা যাত্রা শুরুর পূর্বেই এই ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হতে পারবেন।

সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: নুরুল হক এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ভিত সুদৃঢ় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করায় প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান সর্বাগ্রে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসীদের অর্জিত অর্থের নিরাপত্তা দেওয়া এবং দেশে স্বজনদের কাছে লেনদেন সহজ করতেই এই প্রবাসী কার্ড চালু করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং জনতা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভেতরে নিয়ে আসার এই প্রয়াস জাতীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কার্ড ব্যবহারের প্রক্রিয়া সহজ হলে এবং প্রয়োজনীয় চার্জ সাশ্রয়ী হলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলেই বেশি টাকা পাঠাতে উৎসাহী হবেন।

প্রবাসী কর্মীদের জন্য আধুনিক সব প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করা হলে একদিকে যেমন অবৈধ চ্যানেল বা হুন্ডি প্রতিরোধ করা সহজ হবে, অন্যদিকে রিজার্ভে ইতিবাচক গতি আসবে। বিদেশে অবস্থানকালেও নিজের কষ্টার্জিত অর্থের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সুযোগ প্রবাসীদের মাঝে ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে।

প্রবাসীদের আর্থিক লেনদেন সহজ করতে আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, জনতা ব্যাংকের সাথে সমঝোতা স্মারক সই

স্টুডেন্ট ভিসা ইন্টারভিউ: ‘কেন এই দেশ ও

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *