অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের রিজিওনাল ক্যাম্পাস প্রায়োরিটি পয়েন্ট সুযোগ নাকি ফাঁদ?

অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের রিজিওনাল ক্যাম্পাস প্রায়োরিটি পয়েন্ট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসনের ক্ষেত্রে এক দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে। মূল বা বড় শহরগুলোর কোলাহল ছেড়ে আঞ্চলিক বা কান্ট্রি সাইডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করলে গ্র্যাজুয়েশনের পর দ্রুত স্থায়ী আবাসন বা পিআর পাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। তবে এই আকর্ষক সুবিধার পেছনে রয়েছে কিছু কঠোর শর্ত এবং বড় ধরনের ঝুঁকি, যা না জানলে বড় বিপাকে পড়তে পারেন শিক্ষার্থীরা।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন হাজারো তরুণের প্রধান লক্ষ্য থাকে পড়াশোনা শেষে স্থায়ীভাবে সেটেল হওয়া। সিডনি, মেলবোর্ন বা অকল্যান্ডের মতো প্রধান শহরগুলোতে জীবনযাত্রার খরচ আকাশছোঁয়া এবং প্রতিযোগিতাও তীব্র। এই বাস্তবতায় আঞ্চলিক এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে দারুণ এক বিকল্প হয়ে উঠেছে।
সরকার ও অভিবাসন দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু আঞ্চলিক বা কান্ট্রি ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করলে অতিরিক্ত অভিবাসন পয়েন্ট পাওয়া যায়। এই বোনাস পয়েন্টগুলো চূড়ান্ত অভিবাসন ড্র বা ইওআই (EOI) তে শিক্ষার্থীদের অন্যদের চেয়ে বেশ অনেকটা এগিয়ে রাখে। ফলে পড়াশোনা শেষ করার পরপরই স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
সুবিধার পাশাপাশি এই ব্যবস্থার বেশ কিছু কঠিন শর্ত রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। অনেক শিক্ষার্থী কেবল বাড়তি পয়েন্ট পাওয়ার লোভে আঞ্চলিক ক্যাম্পাসে ভর্তি হন, কিন্তু সেখানে গিয়ে নানা সামাজিক বা অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েন। বড় শহরের মতো পার্টটাইম চাকরি বা সুযোগ-সুবিধা সহজে না পাওয়ায় অনেকেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটি হলো চুক্তিভঙ্গের পরিণতি। কোনো শিক্ষার্থী যদি নির্ধারিত সময়ের আগেই মূল সিটিতে বা বড় শহরে শিফট করে বসেন, তবে তাঁর সেই আঞ্চলিক কোটার সুবিধা বাতিল হয়ে যায়। ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের কঠোর নজরদারির কারণে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বা নিয়ম ফাঁকি দিয়ে শহরে চলে গেলে পিআর অ্যাপ্লিকেশন সরাসরি রিজেক্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিদেশের মাটিতে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখতে গিয়ে আবেগের বশে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বোকামি হবে। রিজিওনাল ক্যাম্পাস প্রায়োরিটি পয়েন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে সফল হতে হলে অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকতে হবে। আঞ্চলিক এলাকার আবাসন খরচ, পার্টটাইম কাজের বাজার এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ভালোভাবে যাচাই করে তবেই পা বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীরা পরামর্শ দেন যে, পড়াশোনা চলাকালীন পুরো সময়টায় আঞ্চলিক এলাকার নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত। একটু সচেতনতা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা একদিকে যেমন পড়াশোনার খরচ কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত পিআর পাওয়ার স্বপ্নকেও করবে ত্বরান্বিত।











