পোশাক খাতে মরিশাসে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বড় সুযোগ

আফ্রিকার অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র মরিশাসের আধুনিক টেক্সটাইল ও ডায়িং কারখানাগুলোতে প্রকট জনবল সংকট মেটাতে মরিশাসে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ কোম্পানির খরচে বিমান টিকিট ও আবাসন সুবিধাসহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্বাচিত দক্ষ সুইং অপারেটর এবং টেকনিশিয়ানদের দেশটিতে পাঠানো হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রটি তাদের শিল্প খাতে দক্ষ জনবলের অভাব অনুভব করছিল। স্থানীয়ভাবে সেই শূন্যতা পূরণ সম্ভব না হওয়ায় তারা পুনরায় বাংলাদেশের দিকে নজর দিয়েছে। উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিদেশগামী কর্মীদের জন্য, বিশেষ করে যারা দেশে পোশাক শিল্পে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন, তাদের জন্য বিনা খরচে উন্নত কর্মপরিবেশে কাজ করার এটি দারুণ এক সুযোগ।
নতুন এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো সম্পূর্ণ শূন্য অভিবাসন ব্যয়। সাধারণত বিদেশে চাকরির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে কর্মীদের বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়, যা অনেক সময় ঋণের বোঝা তৈরি করে। এবারের প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত কর্মীদের যাতায়াত থেকে শুরু করে নিরাপদ থাকার জায়গা পর্যন্ত সবকিছুর ব্যয় সরাসরি বহন করবে মরিশাসের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সরকারি তদারকিতে পুরো কাজ পরিচালিত হওয়ায় দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার শঙ্কা থাকছে না।
নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সময়মতো বেতন পরিশোধের কারণে শ্রমবাজারটি ইতোমধ্যে প্রবাসী নারী ও পুরুষ উভয় শ্রেণির কাছেই বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের তুলনায় এখানকার শ্রম আইন যথেষ্ট শ্রমিকবান্ধব। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ওভারটাইমের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করে মালিকপক্ষ। ফলে দেশের পোশাক খাতের নারী কর্মীরাও সেখানে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করতে পারেন।
গত কয়েক দশকে মরিশাস (Mauritius) নিজেদের একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করেছে। তাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল রপ্তানি। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এসব ডায়িং ও সোয়েটার কারখানায় নিখুঁত কাজের জন্য কারিগরিভাবে দক্ষ জনবল অপরিহার্য। বাংলাদেশের সুইং অপারেটর, নিটিং অপারেটর এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোল টেকনিশিয়ানদের দক্ষতা ও সুনাম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কাজের প্রতি আন্তরিকতা এবং দ্রুত নতুন প্রযুক্তি মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কারণে মরিশাসের কারখানা মালিকদের কাছে বাংলাদেশিরা দীর্ঘকাল ধরেই পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছেন।
করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন দেশ নিজেদের উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে জনবল খুঁজছে। মরিশাস সরকার তাদের টেক্সটাইল খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে বিদেশি দক্ষ কর্মীর ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের যুক্ত হওয়াটা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক অর্থনৈতিক পদক্ষেপ।











