শর্তের মুখে প্রবাসীদের বৃদ্ধ বাবা-মাকে বিদেশে নেওয়ার সুযোগ

বিদেশে স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার পর বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিজের কাছে রাখার স্বপ্নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন আয়সীমা এবং চড়া হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কড়া শর্ত। একদিকে এটি স্থায়ীভাবে পরিবারকে এক ছাদের নিচে আনার স্পষ্ট পথ দেখালেও সরকারের নির্ধারিত উচ্চ আয় ও স্বাস্থ্য বীমার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ফলে পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে বয়োবৃদ্ধ পিতামাতাকে কাছে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।
উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়ার পর অনেকেই চান প্রবীণ পিতা-মাতাকে নিজের কাছে নিয়ে আসতে। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনের শেষ সময়ে সন্তানদের পাশে থাকার সুযোগ করে দিতে বিভিন্ন দেশ এই ফ্যামিলি ভিসার ব্যবস্থা রেখেছে। তবে এই সুযোগ নেওয়ার আগে অভিবাসন দপ্তরের বেধে দেওয়া নিয়মনীতি ভালো করে জেনে নেওয়া জরুরি।
আবেদন প্রক্রিয়াটি যেমন সুনির্দিষ্ট, তেমনই এটি অত্যন্ত খরচসাপেক্ষ। সরকারের মূল উদ্দেশ্য থাকে যেন প্রবীণ নাগরিকরা দেশে এসে স্থানীয় সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি না করেন। সেই কারণেই প্রবাসী সন্তানের ওপর পুরো অর্থনৈতিক দায়ভার ছেড়ে দেওয়া হয়।
পিতামাতাকে স্পন্সর করার ক্ষেত্রে মূল আবেদনকারীর বাৎসরিক আয় একটি বড় ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্র ভেদে নির্ধারিত মাসিক বা বাৎসরিক উপার্জনের যে সীমা দেওয়া থাকে, তার এক চুল নিচে হলেও আবেদন নাকচ হয়ে যেতে পারে। ফলে শুধু চাকরি থাকলেই চলে না, নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত ট্যাক্স দেওয়ার প্রমাণপত্রও জমা দিতে হয়।
এর সাথে যোগ হয় স্বাস্থ্য খাতের পর্বতসম খরচ। বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে শারীরিক জটিলতা বেশি থাকায় সাধারণ ইন্স্যুরেন্স দিয়ে কাজ হয় না। প্রিমিয়াম ইন্স্যুরেন্স কিনতে বিশাল অঙ্কের টাকা গুণতে হয়, যা অনেক সময় মধ্যবিত্ত প্রবাসী পরিবারের বাজেটের বাইরে চলে যায়।
পিতামাতাকে বিদেশে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্তত দুই থেকে তিন বছরের অর্থনৈতিক প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। যে দেশে অবস্থান করছেন, সে দেশের নিয়মকানুন প্রতি বছর হালনাগাদ হয়। তাই কেবল ইমিগ্রেশন কার্ড বা স্থায়ী নাগরিকত্ব পেলেই আবেগ তাড়িত হয়ে আবেদন না করে আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা উচিত।
যদি আয়সীমা সামান্য কম থাকে, তবে অতিরিক্ত আয়ের উৎস নিশ্চিত করা কিংবা সঞ্চয় বাড়ানো দরকার। এছাড়া উপযুক্ত প্রাইভেট হেলথ পলিসি আগে থেকেই রূপরেখা করে রাখলে পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন দপ্তরের কোন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় না।











