প্রবাসীদের ই-টিআইএন ও সম্পদ ট্যাক্স: দেশে সম্পত্তি কেনায় মিলবে কর সুরক্ষা

প্রবাসীদের ই-টিআইএন ও সম্পদ ট্যাক্স ব্যবস্থা চালু হওয়ায় বিদেশে কষ্টার্জিত অর্থে দেশে সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে নতুন আইনি হিসাব-নিকাশ। এখন থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশে জমি বা ফ্ল্যাট কিনলে মিলবে পূর্ণাঙ্গ কর সুরক্ষা। তবে নির্দিষ্ট নিয়মে বাৎসরিক আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে ভবিষ্যতে প্রপার্টি হস্তান্তর কিংবা ব্যাংক লেনদেনে তৈরি হতে পারে চরম জটিলতা।
প্রবাসে রাত-দিন পরিশ্রম করে অর্জিত অর্থ দেশে বিনিয়োগ করার স্বপ্ন দেখেন প্রতিটি প্রবাসী। সেই কষ্টের টাকায় দেশে জমি বা স্থাবর সম্পত্তি কেনার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে চালু করা হয়েছে অনলাইন ই-টিআইএন ও সম্পদ ট্যাক্স সুবিধা। এখন প্রবাসীরা বিদেশ থেকেই অনলাইনে নিজেদের টিআইএন খুলতে পারছেন এবং সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে পারছেন।
এই উদ্যোগের মূল সুবিধা হলো কর সুরক্ষা। বিদেশে অর্জিত বৈধ টাকা ব্যাঙ্কিং চ্যানেলে দেশে পাঠিয়ে প্রপার্টি কিনলে আয়কর বিভাগের কাছে তার স্পষ্ট হিসাব থাকে। ফলে পরবর্তীতে ওই সম্পত্তির উৎস নিয়ে কোনো সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারে না। সঠিক নথিপত্র থাকলে অহেতুক আইনি ভোগান্তি থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।
সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে কিছু কঠোর সতর্কবার্তা। শুধু জমি বা বাড়ি কিনে টিআইএন তৈরি করে রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। প্রবাসীদের প্রতি বছর নিয়মিত আয়কর ফাইল বা রিটার্ন জমা দিতে হবে। যদি কেউ এতে অবহেলা করেন, তবে দেশে থাকা তাঁর স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরে বড় ধরনের আইনি বাধা তৈরি হবে।
রেজিস্ট্রেশন বা প্রপার্টি মিউটেশনের সময় ট্যাক্স রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বা বিবরণী দেখানো এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাছাড়া ট্যাক্স রেকর্ড হালনাগাদ না থাকলে দেশীয় ব্যাংকগুলোতে প্রবাসীদের অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের লেনদেনে স্থগিতাদেশ আসতে পারে। এতে সঞ্চিত অর্থ ব্যবহারের সুযোগও আটকে যেতে পারে।
বিদেশে থাকা অবস্থায় অনেকেই কর ব্যবস্থার জটিলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে বর্তমান অনলাইন সিস্টেম অনেকটাই সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করা হয়েছে। আয়কর অনুবিভাগের তৈরি অনলাইন পোর্টালে ঢুকে সামান্য কিছু নথি আপলোড করেই টিআইএন সনদ পাওয়া সম্ভব।
নিয়মিত সম্পদ বিবরণী আপডেট রাখা প্রবাসীদের জন্য কেবল আইন মানার বিষয় নয়, বরং এটি তাঁদের নিজের কষ্টের অর্জনকে আইনি বৈধতা দেওয়ার সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম। কোনো কারণে ফাইল জমায় ভুল হলে বা বিলম্ব হলে জরিমানা ও অতিরিক্ত কর গুণতে হতে পারে, যা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বাঙালি প্রবাসীদের বিনিয়োগের প্রথম পছন্দই থাকে নিজ দেশের মাটি ও প্রপার্টি। তাই প্রবাসীদের ই-টিআইএন ও সম্পদ ট্যাক্স সংক্রান্ত আইনকানুন সঠিকভাবে মেনে চলাই দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ। এতে নিজের অর্জিত সম্পদ যেমন সুরক্ষিত থাকে, তেমনি দেশের রাজস্ব ও অর্থনৈতিক কাঠামোও জোরদার হয়।
সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক প্রবাসী সময়মতো ট্যাক্স ফাইল জমা দেন না, যা পরবর্তীতে প্রপার্টি বিক্রি বা উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনের সময় বিশাল সমস্যা তৈরি করে। সময় থাকতেই অনলাইন সুবিধা ব্যবহার করে কর সংক্রান্ত সকল নথি হালনাগাদ রাখা অত্যন্ত জরুরি।











