নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রবাসীর গল্প

প্রবাসীদের বিমান টিকেট সংকট নিরসনে নজরদারি সরকারের

ছুটির মৌসুমে প্রবাসীদের বিমান টিকেট কেনায় যে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামের হাঁসফাঁস তৈরি হয়, তা নিয়ন্ত্রণে ‘ওয়ার্কার্স ফেয়ার এয়ারফেয়ার মনিটরিং’ ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভোগান্তি কমাতে সরকারি পর্যায়ে এই বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা প্রসারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও ফুয়েল সারচার্জের প্রভাব উৎসবের দিনগুলোতে টিকেটের মূল দাম কিছুটা বাড়িয়ে রাখতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে, বিশেষ করে দুই ঈদ, শীতকালীন ছুটি কিংবা গালফ অঞ্চলের ছুটির মৌসুমে প্রবাসীদের দেশে ফেরার ঢল নামে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী টিকেট এজেন্টস ও কিছু বিমান সংস্থা টিকেটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। মুহূর্তের মধ্যেই টিকেটের দাম সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

বহু বছর ধরে এই ধরনের অনিয়মের কারণে প্রবাসী শ্রমিকদের বছরের কষ্টার্জিত উপার্জনের বড় একটি অংশ স্রেফ যাতায়াত ভাড়াতেই শেষ হয়ে যায়। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক এভিয়েশন নীতিমালা ও স্থানীয় সিভিল এভিয়েশনের সমন্বয়ে একটি সুনির্দিষ্ট তদারকি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ওয়ার্কার্স ফেয়ার এয়ারফেয়ার মনিটরিং’ কার্যকর হলে এয়ারলাইন্সগুলো আর ইচ্ছেমতো দাম বাড়াতে পারবে না। সরকারি তদারকি থাকলে কোন ফ্লাইটে কতটি আসন খালি আছে এবং সেগুলো কী দামে বিক্রি হচ্ছে, তা সরাসরি তদারকি করা সম্ভব হবে। এর ফলে সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম অভাব তৈরির পথ বন্ধ হবে।

ন্যায্য মূল্যে প্রবাসীদের বিমান টিকেট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে প্রবাসীরা কম খরচে দেশে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে করে বৈধ উপায়ে দেশে আসা রেমিট্যান্স প্রবাহও আরও বেগবান হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও সব সংকট এক রাতে মেটানো সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে বিমান জ্বালানির (Jet Fuel) দাম ওঠানামা করার কারণে এভিয়েশন খাতকে প্রতিনিয়ত ফুয়েল সারচার্জ সমন্বয় করতে হয়।

এর ফলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ও অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের দোহাই দিয়ে উৎসবের সময় টিকেটের বেসিক প্রাইস খানিকটা চড়া থেকে যেতে পারে। অর্থাৎ, তদারকির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট মেটানো গেলেও বিশ্ববাজারের প্রভাব এড়ানো কঠিন হবে।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে অত্যন্ত কম বেতনে কঠোর পরিশ্রম করেন। তাঁদের যাতায়াত খরচ সহনীয় পর্যায়ে রাখা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থাসহ অন্যান্য বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর সাথে আলোচনা করে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কোটা ও নির্দিষ্ট ফেয়ার ক্যাপ বা সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করা যেতে পারে।

পাশাপাশি, এয়ারলাইন্সগুলোর টিকেট বুকিং ব্যবস্থা শতভাগ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ রাখা জরুরি। কোনো টিকিট বুকিং এজেন্সি যেন অগ্রিম ব্লক করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রবাসীদের বিমান টিকেট সংকট নিরসনে নজরদারি সরকারের

চালু হলো প্রবাসী নারী শ্রমিকদের সরকারি আইনি

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *