নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রিয় বাংলাদেশ #শীর্ষ-১ #সফলতা

বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা: বাংলাদেশি প্রবাসীদের সাফল্যের অদম্য গাঁথা

এক সময় ধারণা করা হতো, বাংলাদেশ থেকে যারা প্রবাসে যান, তারা কেবল অদক্ষ শ্রমিক। কিন্তু সেই ধারণা এখন পাল্টে গেছে আমূল। মরুভূমির উত্তপ্ত বালুকা থেকে শুরু করে ইউরোপ-আমেরিকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কর্পোরেট অফিস—সবখানেই এখন বাংলাদেশি প্রবাসীদের জয়জয়কার। দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের চাকা সচল রাখার পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে চলেছেন।

অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের জিডিপির একটি বিশাল অংশ আসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে যে শ্রমিক মাস শেষে দেশে টাকা পাঠান, তার ঘামের গন্ধে মিশে আছে বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প। সৌদি আরব, আরব আমিরাত, ওমান কিংবা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের সততা এবং কর্মনিষ্ঠার সুনাম রয়েছে। বিশেষ করে নির্মাণ শিল্প, সেবা খাত এবং কৃষি খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বিদেশি নিয়োগকর্তাদের।

উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ শ্রমিকের পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে হাজারো বাংলাদেশি এখন সফল উদ্যোক্তা। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ চেইন, লন্ডনের ব্রিক লেনের কারি হাউজ, কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইটি ফার্ম—সবখানেই বাংলাদেশিদের আধিপত্য। লন্ডনের অর্থনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ীদের অবদান এখন বিলিয়ন পাউন্ডের ঘরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, জ্যাকসন হাইটস কিংবা নিউজার্সিতে বাংলাদেশিদের রিয়েল এস্টেট এবং গ্রোসারি ব্যবসা এখন স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ।

মেধা ও মননের বিশ্বজয় শুধুমাত্র ব্যবসা বা কায়িক শ্রম নয়, মেধার জায়গাতেও বাংলাদেশিরা এখন বিশ্বসেরা। নাসা (NASA) থেকে শুরু করে বিশ্বের নামকরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা। ইন্টেল, গুগল, মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অসংখ্য বাংলাদেশি প্রকৌশলী।

রাজনীতির মাঠেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশিরা। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক, রূপা হক এবং আফসানা বেগমের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ব্রিটিশ রাজনীতিতেও বাংলাদেশিরা এখন নীতিনির্ধারণী ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট সিনেট এবং স্থানীয় কাউন্সিলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের বিজয় এখন নিয়মিত ঘটনা।

নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের প্রবাসীরা এখন বিদেশের মাটিতে মূলধারার সাথে মিশে গেছেন। তারা সেখানকার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ডিগ্রি নিয়ে ডাক্তার, ব্যারিস্টার, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন। তাদের এই সাফল্য শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশি প্রবাসীরা এখন আর করুণার পাত্র নন, তারা এখন সম্মানের পাত্র। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স যেমন দেশের মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নে সহায়তা করছে, তেমনি তাদের ব্যক্তিগত সাফল্য বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং হিসেবে কাজ করছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে এই প্রবাসীরাই একদিন বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যাবে।

বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা: বাংলাদেশি প্রবাসীদের সাফল্যের অদম্য গাঁথা

রেমিট্যান্স যোদ্ধার সারিতে নারী: সততা আর সাহসিকতার

বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা: বাংলাদেশি প্রবাসীদের সাফল্যের অদম্য গাঁথা

মানসিকভাবে ভালো নেই, বই-ই এখন একমাত্র সঙ্গী

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *