নভেম্বর ৯, ২০২৬
#এডিটর্স পিক #নতুন প্রবাসী গাইড

বিদেশ যেতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক

বিদেশ যেতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন কিংবা জার্মানি, উন্নত বিশ্বের এসব দেশে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন অনেক তরুণ। কিন্তু বাধ সাধছে ভাষা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান। এই সংকট নিরসনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। এখন থেকে বিদেশের মাটিতে ভাষা শিক্ষা ও বিশেষ দক্ষতা অর্জনের জন্য কোনো জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন বাংলাদেশি প্রবাসপ্রত্যাশীরা।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে দক্ষ জনবল পাঠাতে সরকার দীর্ঘদিন ধরেই জোর দিয়ে আসছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক চালু করেছে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ভাষা শিক্ষা ও বিশেষ দক্ষতা অর্জনের জন্য ঋণ’ কর্মসূচি। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ভাষা ও কারিগরি দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশি কর্মীরা যেন পিছিয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে যারা উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে যেতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ঋণের পরিধি ও ব্যয়ের খাত

সাধারণত প্রবাসীদের জন্য প্রচলিত ঋণগুলো শুধুমাত্র টিকেট বা ভিসার ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হতো। তবে এই বিশেষ ঋণের ধরন কিছুটা ভিন্ন। আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি টিউশন ফি পরিশোধ করবে ব্যাংক। শুধু তাই নয়, বিদেশে গিয়ে ভাষা শেখা কালীন থাকা-খাওয়ার যে বড় অংকের ব্যয় হয়, তা নির্বাহের জন্যও এই ঋণের অর্থ ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ, পকেটে বড় অংকের মূলধন না থাকলেও শুধুমাত্র মেধা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে এখন বিদেশের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ে বা ভাষা কোর্সে ভর্তি হওয়া সম্ভব।

এক নজরে ঋণের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • ঋণের পরিমাণ: যোগ্যতা ও চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত।

  • জামানত: এই ঋণের জন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তির জামানত বা গ্যারান্টি লাগবে না (শর্তসাপেক্ষে)।

  • উদ্দেশ্য: মূলত জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও জার্মানির মতো দেশগুলোর ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি মানোন্নয়ন।

  • সরাসরি ফি প্রদান: জালিয়াতি রোধে ব্যাংক সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে টিউশন ফি প্রেরণ করবে।

  • ভাতা সুবিধা: বিদেশে অবস্থানকালীন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর সুযোগ।

কেন এই বিশেষ উদ্যোগ?

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর শ্রমবাজার থেকে বেরিয়ে এসে ইউরোপ ও উন্নত এশিয়ার দেশগুলোতে বাজার সম্প্রসারণ করতে হলে ভাষার ওপর দখল থাকা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে জাপানে ‘এসএসডব্লিউ’ (SSW) বা দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘ই-নাইন’ (E-9) ভিসার ক্ষেত্রে ভাষার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া প্রথম শর্ত। অনেক মেধাবী তরুণ এই কোর্সগুলো করতে চাইলেও অর্থের অভাবে পিছিয়ে পড়তেন। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এই ঋণ সেই আর্থিক দেয়ালটি ভেঙে দিল।

একটি পরিসংখ্যান বলছে, অদক্ষ শ্রমিকের তুলনায় একজন দক্ষ ও ভাষাগত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মী বিদেশ থেকে প্রায় তিন গুণ বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে সক্ষম। ফলে এই ১০ লাখ টাকার বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য কয়েক কোটি টাকার সুফল বয়ে আনবে।

আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা

আগ্রহী আবেদনকারীদের অবশ্যই নির্দিষ্ট দেশের ভাষা কোর্সে ভর্তির অনুমতিপত্র বা আই-২০ (I-20) সদৃশ নথিপত্র দেখাতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীর বৈধ পাসপোর্ট এবং কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রমাণাদি ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঋণ ছাড় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকা ঋণ

বিদেশ যেতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক

সৌদিতে ছাদ থেকে পড়ে আজগরের মৃত্যু; ‘অবৈধ’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *