বিদেশে প্রবাসীদের বেওয়ারিশ লাশ; বাড়ছে মানবিক সংকট

মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত অনেক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হলেও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া বা পরিবার যোগাযোগ না করতে পারায় তাদের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন বা সংরক্ষিত থাকার ঘটনা বাড়ছে। ২০২৬ সালে এ ধরনের মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্টরা।
প্রবাস জীবনের বাস্তবতা অনেক সময় কঠিন ও নিঃসঙ্গ। অনেক শ্রমিক অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা অজানা কারণে মারা গেলেও দ্রুত পরিবারকে জানানো সম্ভব হয় না।
আবার অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নথি না থাকা, ভুল তথ্য বা পরিচয় যাচাইয়ের জটিলতার কারণে লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে থেকে যায়। ফলে শেষ বিদায়টাও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে হারিয়ে যায়।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এখানে কর্মরত অনেক প্রবাসীর মৃত্যুর পর পরিচয় শনাক্তে দেরি হওয়ায় লাশ দীর্ঘ সময় সংরক্ষিত থাকে বা অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়। ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু দেশেও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে।
আরও পড়ুনঃ কাতারের এলএনজি উৎপাদন স্থগিত: ইউরোপে দাম বাড়লো ৫০ শতাংশ
বেওয়ারিশ লাশ ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি ধাপ জড়িত থাকে। যেমন, হাসপাতাল বা পুলিশ প্রাথমিকভাবে লাশ গ্রহণ করে এরপর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয় (ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ডকুমেন্ট)। পরবর্তীতে দূতাবাসকে জানানো হয় এবং পরিবার শনাক্ত না হলে স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী দাফন বা সংরক্ষণ করা হয়। অনেক সময় ভাষাগত বাধা ও নথি জটিলতার কারণে প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়।
বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো সাধারণত পরিচয় শনাক্ত ও দেশে মরদেহ পাঠানোর কাজে সহায়তা করে। তবে সব ক্ষেত্রে দ্রুত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয় না।
কিছু ক্ষেত্রে দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। কিন্তু যোগাযোগ না থাকলে অনেক লাশ অজ্ঞাত অবস্থায়ই থেকে যায়।
এই পরিস্থিতি শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, বরং গভীর মানবিক সংকট।
অনেক পরিবার মাসের পর মাস অপেক্ষা করে, কিন্তু প্রিয়জনের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিতভাবে পান না। আবার কেউ কেউ অনেক দেরিতে জানতে পারেন, তখন মরদেহ ফেরত আনা সম্ভব হয় না।











