আরব আমিরাতে আইএলওই বিমা নবায়নে কড়াকড়ি: অমান্য করলেই জরিমানা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিদেশি কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক বেকারত্ব বিমা বা ‘ইনভলান্টারি লস অব এমপ্লয়মেন্ট’ (আইএলওই) বিমা নবায়ন না করলে ৪০০ দিরহাম জরিমানার কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। দেশটির মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয় (মہرے) সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পলিসির প্রিমিয়াম পরিশোধ ও চুক্তি নবায়নে ব্যর্থ হলে কর্মীদের সরাসরি এই অর্থদণ্ড গুনতে হবে।
আমিরাতে বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই বেকারত্ব বিমা চালু করেছিল দেশটির সরকার। কোনো কর্মী যদি তাঁর নিজস্ব কোনো ভুল বা শৃঙ্খলাভঙ্গ ছাড়া হঠাৎ চাকরি হারান, তবে তিনি এই স্কিমের আওতায় নগদ আর্থিক সহায়তা পান। সর্বোচ্চ টানা তিন মাস পর্যন্ত কর্মীর শেষ আহরিত মূল বেতনের ৬০ শতাংশ অর্থ ভাতা হিসেবে প্রদান করে সংশ্লিষ্ট বিমা কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যের কর্মসংস্থান বাজারে এটিকে প্রবাসীদের জন্য অন্যতম সেরা একটি সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী হিসেবে দেখা হয়।
আমিরাতের শ্রম আইন অনুযায়ী, দেশটির মূল ভূখণ্ড ও ফ্রি জোন এলাকায় কর্মরত সব প্রবাসী শ্রমিকের জন্য এই স্কিমে অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, শুধু প্রথমবার বিমা কার্ড করাটাই যথেষ্ট নয়; প্রিমিয়ামের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আইএলওই বিমা নবায়ন সম্পন্ন করতে হবে। যদি কোনো কর্মী সময়মতো কিস্তি না দেন কিংবা চুক্তি নবায়ন না করেন, তবে তাঁর বিমা সুবিধা বাতিল হওয়ার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৪০০ দিরহাম (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৩,০০০ টাকা) জরিমানা আরোপিত হবে।
এই জরিমানা এড়াতে আমিরাত প্রবাসী কর্মীদের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ, এটিএম কিংবা নির্দিষ্ট সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সময়মতো কিস্তি পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এমনকি চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন প্রতিষ্ঠানের অধীনে তথ্য হালনাগাদ করা জরুরি।
ইউএইতে কর্মরত বিশালসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বিষয়টির গুরুত্ব অপরিসীম। তথ্যগত সচেতনতার অভাবে অনেক বাংলাদেশি কর্মী বিমার মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন না, যার ফলে শেষ মুহূর্তে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হন। পেশাগত জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশাসনিক জরিমানা এড়াতে নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধ করার পরামর্শ দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শ্রম বিশেষজ্ঞরা।











