নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শ্রমবাজার

ই-৯ থেকে ই-৭ ভিসা: প্রবাসীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ নাকি ঝুঁকি?

দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত সাধারণ কর্মীরা এখন ই-৯ থেকে ই-৭ ভিসা নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাঁদের পেশাগত জীবনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। দেশটির নিয়ম অনুযায়ী, ফ্যাক্টরিতে কাজ করার পাশাপাশি প্রবাসীরা এখন স্থানীয় বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে সন্ধ্যাকালীন বা নাইট কোর্সে ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি অর্জন করতে পারছেন। এর মাধ্যমে খুব সহজেই সাধারণ শ্রমিক থেকে প্রফেশনাল ক্যাটাগরির ভিসায় সুইচ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই দুর্দান্ত সুযোগের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কঠিন শর্ত ও বড় ধরনের ঝুঁকি।

কোরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। এতদিন ই-৯ ভিসাধারী কর্মীরা নির্দিষ্ট মেয়াদের পর নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হতেন। কিন্তু বর্তমানের এই বিশেষ ব্যবস্থার ফলে প্রবাসীরা কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সন্ধ্যাকালীন এই ডিগ্রি প্রোগ্রামগুলোর মাধ্যমে কোরিয়ান ভাষার উচ্চতর দক্ষতা এবং টেকনিক্যাল জ্ঞান অর্জন করা যায়। ফলে কোরিয়ার লেবার মার্কেট বা চাকরির বাজারে প্রফেশনাল ক্যাটাগরিতে নিজেদের স্থায়ী করার পথ সুগম হয়। বহু প্রবাসী ইতিমধ্যে এই সুযোগ লুফে নিয়েছেন।

বাইরে থেকে এই সুযোগটি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে এর পেছনের প্রক্রিয়াটি বেশ কঠিন। কোরিয়ান ফ্যাক্টরিগুলোতে কাজের চাপ অত্যন্ত বেশি থাকে। নিয়মিত ওভারটাইম ও রোটেটিং শিফট ডিউটি সামলে প্রতিদিন ক্লাসে সময় দেওয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে বেশ কষ্টসাধ্য।

বিশেষ করে, ইউনিভার্সিটির উপস্থিতি নীতি খুবই কঠোর। ক্লাসে নির্দিষ্ট শতাংশ উপস্থিতি বজায় রাখতে না পারলে কেবল কোর্স থেকেই ফেল করানো হয় না, বরং ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো ছোট একটি অসাবধানতা। কাজের প্রচণ্ড ক্লান্তি বা শিফট ওভারল্যাপের কারণে ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে নেগেটিভ রিপোর্ট করতে পারে। এর ফলে ই-৯ থেকে ই-৭ ভিসা পাওয়ার স্বপ্ন তো ভাঙেই, উল্টো স্টাডি পারমিত এবং বর্তমান ওয়ার্ক পারমিট দুটোই একসঙ্গে বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তখন বাধ্য হয়েই কোরিয়া ছাড়তে হতে পারে।

তাই যারা এই কঠিন পথে পা বাড়াতে চান, তাঁদের আগে থেকেই নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা, কর্মঘণ্টা এবং প্রতিষ্ঠানের কোঅপারেশন বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত। হুজুগে পড়ে সিদ্ধান্ত নিলে লাভের চেয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন প্রবাসীরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *