নভেম্বর ৯, ২০২৬
#নতুন প্রবাসী গাইড #প্রবাসীর গল্প #শ্রমবাজার

কুয়েতে ট্রাফিক ও আবাসন আইন ভাঙলেই ডিপোর্টেশন

কুয়েতে ডিপোর্টেশন নীতি আরও কঠোর করে ট্রাফিক ও আবাসন বিধি অমান্যকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ‘তালহিস’ বা দেশত্যাগে বাধ্য করার অভিযান জোরদার করেছে কুয়েত সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অবৈধ আকামা কেনাবেচা এবং মারাত্মক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলেই অভিযুক্তদের আইনি আপিলের কোনো সুযোগ না দিয়ে সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

উপসাগরীয় এই দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অভিবাসী এবং আইন অমান্যকারীদের ধরতে প্রশাসনের ধরপাকড় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানী কুয়েত সিটিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে যারা নিজস্ব বৈধ স্পন্সরের (কফিল) বাইরে গিয়ে অন্য কোনো স্থানে কাজ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রশাসন সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক নিয়মের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে ভাড়ায় অবৈধ ট্যাক্সি চালানো বর্তমানে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। একইসঙ্গে অনুমোদনহীন স্থানে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করলে ঘটনাস্থল থেকেই প্রবাসীদের আটক করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত বিদেশিদের আদালতে আপিল করার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর এই প্রক্রিয়া প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই কুয়েতে আকামা বা ভিসা কেনাবেচার একটি অবৈধ চক্র সক্রিয় রয়েছে, যা দেশটির শ্রমবাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বর্তমান অভিযানে অবৈধ আকামা বাণিজ্যের সাথে জড়িতদের বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়েছে। যারা টাকার বিনিময়ে ভুয়া স্পন্সরশিপের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়ে আসছেন এবং কোনো কাজ না দিয়ে তাদের রাস্তায় ছেড়ে দিচ্ছেন, সেই সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। ধরা পড়লে প্রবাসীদের শুধু দেশে ফেরতই পাঠানো হচ্ছে না, বরং ভবিষ্যতে যেন তারা কুয়েতে বা গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ভুক্ত অন্য কোনো দেশে পুনরায় প্রবেশ করতে না পারেন, তার জন্য আঙুলের ছাপ রেখে আজীবনের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।

কুয়েতের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে কয়েক লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিযুক্ত রয়েছেন। প্রশাসনের নতুন এই কঠোর অবস্থান প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে। অনেক সাধারণ শ্রমিকই সামান্য বেশি আয়ের আশায় মূল স্পন্সরের বাইরে চুক্তিতে কাজ করেন। আবার অনেক প্রবাসী ঋণ করে গাড়ি কিনে তা অবৈধ ট্যাক্সি হিসেবে ব্যবহার করেন। বর্তমান আইনি কাঠামোতে এ ধরনের কার্যক্রম চরম বিপদ ডেকে আনতে পারে। একবার ডিপোর্টের শিকার হলে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

কুয়েতে ট্রাফিক ও আবাসন আইন ভাঙলেই ডিপোর্টেশন

সুইডেন ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে নতুন নিয়ম, বিপাকে

কুয়েতে ট্রাফিক ও আবাসন আইন ভাঙলেই ডিপোর্টেশন

পোশাক খাতে মরিশাসে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বড়

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *