নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শীর্ষ নিউজ #শ্রমবাজার

প্রবাসে ক্যারিয়ার: প্রথম দিন থেকেই স্পাউস ও ডিপেন্ডেন্ট ওয়ার্ক পারমিট দেয় যে ৫টি দেশ

বিদেশে গমনের ক্ষেত্রে স্পাউস ও ডিপেন্ডেন্ট ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার সুবিধা থাকলে শিক্ষার্থী এবং চাকুরিজীবীদের আন্তর্জাতিক জীবনযাত্রার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য বা কানাডার মতো ঐতিহ্যবাহী গন্তব্যগুলোতে সম্প্রতি ভিসা সংক্রান্ত নীতিমালায় কড়াকড়ি বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন বাস্তবতায় ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কিছু উদীয়মান ও উন্নত দেশ আন্তর্জাতিক নাগরিকদের তাদের জীবনসঙ্গীসহ আসার সুযোগ দিচ্ছে এবং প্রথম দিন থেকেই ফুল-টাইম কাজের আইনগত অধিকার প্রদান করছে।

ইউরোপের অন্যতম শান্ত ও উন্নত দেশ ফিনল্যান্ড আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে তাদের ভিসা নীতি অত্যন্ত সহজ করেছে। ফিনল্যান্ডে গ্র্যাজুয়েশন কিংবা মাস্টার্স পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর স্বামী বা স্ত্রী দেশে পৌঁছানোর পরপরই কোনো ধরনের অতিরিক্ত ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই পূর্ণকালীন কাজে যোগ দিতে পারেন। বাল্টিক অঞ্চলের প্রযুক্তিভিত্তিক দেশ এস্তোনিয়াও এই তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মী সংকট থাকায় সেখানে ডিপেন্ডেন্টদের ওপর কাজের কোনো আইনগত বাধা নেই।

পূর্ব ইউরোপের স্লোভেনিয়া এবং চেক রিপাবলিক উচ্চশিক্ষার খরচ ও জীবনযাত্রার দিক থেকে অত্যন্ত সাশ্রয়ী। এই দেশগুলোতে প্রধান আবেদনকারীর স্টুডেন্ট ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট অনুমোদিত হলে তাঁর স্পাউস একই ভিসার অধীনে যেকোনো বৈধ প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করতে পারেন। আলাদাভাবে চাকরির অফার লেটার দেখানোর প্রয়োজন না থাকায় সহজেই কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়।

ইউরোপীয় ব্লকের বাইরে এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের কয়েকটি দেশ তাদের ভিসা নীতিতে বিশাল ছাড় দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো সমৃদ্ধ দেশে গবেষক বা উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা সরাসরি ফুল-টাইম কাজের অনুমতি পান। এছাড়া আয়ারল্যান্ড তাদের উচ্চপ্রযুক্তি খাত এবং শিক্ষা খাতকে আরও গতিশীল করতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করেছে, যেখানে পরিবারের সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ওশেনিয়া অঞ্চলের নিউজিল্যান্ডে মাস্টার্স (লেভেল-৯) এবং পিএইচডি (লেভেল-১০) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্পাউস ও ডিপেন্ডেন্ট ওয়ার্ক পারমিট অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর। প্রধান আবেদনকারী মূল কোর্সে ভর্তি থাকার পুরো মেয়াদে তাঁর সঙ্গী দেশের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনভাবে পূর্ণকালীন চাকরির আবেদন ও সম্পাদন করতে পারেন।

প্রবাসে গিয়ে প্রথম দিন থেকেই কাজ করার সুবিধা পেতে হলে আবেদনের সময়েই সঠিক তথ্য প্রদান করা আবশ্যক। অধিকাংশ দেশে প্রধান আবেদনকারীকে ফুল-টাইম শিক্ষার্থী হিসেবে কোনো সরকার স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধিত থাকতে হয়। শর্ট-টার্ম বা ভোকেশনাল কোর্সের ক্ষেত্রে অনেক সময় পরিবার সাথে নেওয়ার কিংবা কাজের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

আবেদন প্রক্রিয়ার সময় ব্যাংকে পর্যাপ্ত আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি একটি ধাপ। যদিও স্পাউস পৌঁছানোর পর কাজ করার অনুমতি পাবেন, তবুও প্রাথমিক কয়েক মাসের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সমর্থ প্রমাণ করতে হয়। বিবাহিত জীবনের সঠিক প্রমাণপত্র এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে জমা দিলে ভিসার অনুমোদন পাওয়ার হার বহুগুণ বেড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা বা চাকরির সিদ্ধান্ত যেকোনো পরিবারের জন্য বড় ধরনের একটি আর্থিক বিনিয়োগ। ক্ষেত্রে বিশেষে স্পাউস ও ডিপেন্ডেন্ট ওয়ার্ক পারমিট অর্জন করা গেলে প্রবাসে পরিবারের মূল উপার্জনের মাধ্যম দ্রুত গড়ে তোলা যায়। শিক্ষার্থী যখন তাঁর শিক্ষাজীবনে মনোনিবেশ করেন, তখন তাঁর জীবনসঙ্গী চাকরি বা ব্যবসা পরিচালনা করে পড়ার খরচ এবং পারিবারিক দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

বিশ্বায়নের এই যুগে কেবল চিরাচরিত জনপ্রিয় দেশগুলোর ওপর নির্ভর না করে কৌশলগতভাবে কম পরিচিত কিন্তু উন্নত সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক সময়ে সঠিক দেশ নির্বাচন করতে পারলে ভিসা জটিলতা এড়িয়ে খুব সহজেই প্রবাসে স্থায়ী ক্যারিয়ার ও মানসম্মত জীবন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *